

ভারতের উত্তরপ্রদেশে একটি সরকারি বিদ্যালয়ের মৌলিক অবকাঠামোগত সমস্যার প্রতিবাদে শত শত শিক্ষার্থীর বিক্ষোভের মুখে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ, পানীয় জল, পর্যাপ্ত পাখা এবং আসবাবের সংকটের অভিযোগ তুলে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ বর্জন করে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেয় জেলা প্রশাসন।
ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের ফতেহপুর জেলার কিষাণপুর এলাকার সর্বোদয় আন্তঃবিদ্যালয়ের। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে বিদ্যুতের সংযোগ ঠিকভাবে কাজ করছে না। অধিকাংশ শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত পাখা নেই। পানীয় জলেরও তীব্র সংকট রয়েছে। পাশাপাশি অনেক শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চ ও ডেস্ক ভাঙাচোরা অবস্থায় থাকায় স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, এসব সমস্যা নিয়ে বহুবার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে তারা শ্রেণিকক্ষ বর্জন করে বিদ্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভ শুরু করে। জাতীয় পতাকা ও ভীমরাও রামজি আম্বেদকরের ছবি হাতে নিয়ে বিভিন্ন দাবিসংবলিত পোস্টার প্রদর্শন করে তারা।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মৌলিক সুযোগ-সুবিধার দাবি তুললে তাদের পরীক্ষায় অকৃতকার্য করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে পাখার অভাবে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করা হয়। কয়েকজন শিক্ষকের দুর্ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছে তারা।
আন্দোলনে ছেলে ও মেয়ে—উভয় শিক্ষার্থীই অংশ নেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক রাকেশ কুমার জানান, শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত অধিকাংশ দাবি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে চারটি করে পাখা বসানো, বিদ্যুতের সংযোগ দ্রুত মেরামত, এক মাসের মধ্যে নতুন বেঞ্চ ও ডেস্ক সরবরাহ এবং বিশুদ্ধ পানির জন্য ওয়াটার কুলার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বিদ্যালয়ের মধ্যাহ্নভোজের তালিকায় পরিবর্তন আনার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান বিভাগে পাঠদানের ব্যবস্থার দাবিও জানিয়েছে। তবে এ জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগার স্থাপন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হওয়ায় বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রাখা হয়েছে।
প্রশাসনের আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে। তবে প্রতিশ্রুত কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়িত না হলে আবারও আন্দোলনের পথে নামার ইঙ্গিত দিয়েছে তারা।
