ঢাকা
১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ৯:৩০
logo
প্রকাশিত : জুন ১১, ২০২৬

বাজেটে আপাতত কালো টাকা বৈধতার সুযোগ না রাখায় টিআইবি'র সতর্ক সাধুবাদ

প্রস্তাবিত বাজেটে আপাতত কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ না রাখায়, সরকারকে সতর্ক সাধুবাদ জানাচ্ছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একইসঙ্গে, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব বাস্তবায়নের শর্ত হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্মজীবীদের সম্পদ-বিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করারও জোর দাবি জানায় টিআইবি।

বাজেট ঘোষণার প্রেক্ষিতে আজ এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘‘প্রস্তাবিত বাজেটে অসাংবিধানিক, বৈষম্যমূলক ও দুর্নীতিসহায়ক বিধান ‘‘কালো টাকা সাদা’’ করার সুযোগ প্রদান না করা সরকারের দুর্নীতিবিরোধী নির্বাচনী অঙ্গীকারের স্বপক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে, পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানসহ নানা অজুহাতে বিভিন্ন খাতে ‘‘অর্থ বিলে’’ এ সুযোগটি অব্যাহত রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোনোভাবেই বাজেটে কালো টাকা বৈধ করার অনৈতিক সুযোগটি আর ফিরে না আসে- এই প্রত্যাশা করছি। স্বাধীনতার পরে নিরবিচ্ছন্নভাবে এই সুযোগ প্রদান করা হলেও, এর মাধ্যমে প্রকৃত অর্থে আর্থিক লাভের থেকে সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি ‘‘কর ফাঁকি’’ দেওয়ার দুর্বিনীত সংস্কৃতির সৃষ্টি হয়েছে। আশাকরছি, এই দুর্নীতিসহায়ক চর্চার বিপরীতে সরকার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।’

সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন-কাঠামোর ঘোষণার কথা উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো যেভাবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা প্রমাণ করছে এ বিষয়ে সরকারকে বাস্তবতার আলোকে কতটা কঠোর হিসাব নিকাশ করতে হয়েছে। এক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ আয়ের অন্য সকল খাতের পেশাজীবীদের মতো সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা দ্রব্যমূল্য তথা জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে, তাদের সর্বোচ্চ পেশাগত উৎকর্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত কর্মসম্পাদন অসম্ভব। এ জন্য ১১ বছরের ব্যবধানে আর্থিক সক্ষমতার কঠিন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও প্রস্তাবিত বাজেটে বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা যৌক্তিক বিবেচিত হয়েছে। তবে এ বরাদ্দের মাধ্যমে সরকারি কর্মজীবীদের পেশাগত উৎকর্ষের পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত কর্মসম্পাদনের প্রত্যাশিত সুফল পেতে হলে নতুন পে-স্কেল প্রযোজ্য হওয়ার শর্ত হিসেবে, সংশ্লিষ্ট কর্মজীবীদের সম্পদ-বিবরনী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ যে সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজের ও পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয় ও সম্পদের হিসাব বাৎসরিক ভিত্তিতে হালনাগাদ করা সাপেক্ষে বাধ্যতামূলকভাবে চর্চা করবেন, শুধু তাদের জন্যই নতুন পে-স্কেল প্রযোজ্য হবে। মনে রাখতে হবে, নতুন পে-স্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পাশাপাশি এ কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ সার্বিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয়ের অতিরিক্ত বোঝা বইতে হবে সাধারণ মানুষকে। অতএব, সরকারি কর্মজীবীদের পেশাগত উৎকর্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত কর্মসম্পাদনের জবাবদিহির স্বার্থে তাদের সম্পদ-বিবরণী প্রকাশ অপরিহার্য।’

একইসঙ্গে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ওপর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক নিত্যপণ্য ও সেবার শুল্ককর ছাড় দেওয়ার যে প্রস্তাবসমূহ করা হয়েছে, তা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘বাজেট বক্তৃতায় ‘‘কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং করব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে’’ মর্মে যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তার কার্যকর বাস্তবায়ন করতে হবে। সৎভাবে অর্থ উপার্জনকারীরা যাতে নির্বিঘ্নে হয়রানিমুক্ত পরিবেশে কর প্রদান করতে পারে, এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর জবাবদিহিতা ও উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে ‘‘কর ফাঁকি’’ রোধে শুধু তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিই যথেষ্ট নয়, বরং এক্ষেত্রে যোগসাজশের করফাঁকির স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত রাজস্ব প্রশাসনের একশ্রেণির অসাধু, দুর্নীতিবাজ কর্মচারীদের ব্যাপারে বিভিন্ন সময়ে যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়ে থাকে, তা আমলে নিয়ে এ খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। কেননা করফাঁকি দেশের কর-রাজস্বের ঘাটতির অন্যতম কারণ। ঋণনির্ভর বাজেট থেকে রাজস্বনির্ভর বাজেটে উত্তরণে যোগসাজশের করফাঁকি বন্ধ করাসহ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে দুর্নীতিমুক্ত করা ছাডা, অন্য কোনো ব‍্যবস্থাই বাস্তব সুফল দিবে না’।

অন্যদিকে, বাজেট বাস্তবায়ন-প্রক্রিয়ায় সুশাসন নিশ্চিতের সুস্পষ্ট কোনো আলোচনা বা ‘‘পথরেখা’’ নেই। প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনায়, সে বিষয়টির উল্লেখ না থাকা হতাশাজনক। আশাকরছি, চূড়ান্ত বাজেটে এ বিষয়ে আলোকপাত করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন ড. জামান।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram