ঢাকা
২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
বিকাল ৪:০৬
logo
প্রকাশিত : মে ২১, ২০২৬

আসছে সমন্বিত ‘ফ্যামিলি ট্রি’, এক কার্ডেই সব সুবিধা: প্রতিমন্ত্রী

সরকার এবার দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও সমন্বয় আনতে ‘ফ্যামিলি ট্রি’ নামে একটি নেটওয়ার্কিং সিস্টেম চালুর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করছে।

এটির মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সব ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একত্রিত হবে। ফলে একই ব্যক্তি বা পরিবারে ভাতা পাওয়ার দ্বৈততা (ডাবল বুকিং) বন্ধ হবে এবং প্রকৃত প্রাপকের কাছে রাষ্ট্রীয় সুবিধা পৌঁছাবে।

প্রস্তাবিত এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা পারিবারিক তথ্যভাণ্ডার চালু হলে প্রান্তিক মানুষরা মাত্র একটি কার্ড ও কিউআর কোডের মাধ্যমে সব ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা সেবা পাবে।

সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি এবং সরকারের নতুন পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বর্তমান সরকারের অগ্রগতি, মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ মহাপরিকল্পনার নানা দিকেও আলোকপাত করেন।

প্রতিমন্ত্রী জানালেন, আগামী জুনের মধ্যে ৮০ হাজার মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পাইলটিং কার্যক্রম শেষ হবে। তিনি বলেন, “আমরা পর্যায়ক্রমে বা ফেজ বাই ফেজ এগোচ্ছি। পাইলটিং মূলত ট্রায়াল অ্যান্ড এরর-এর জন্য করা হয়, যাতে মাঠ পর্যায়ের ছোটখাটো ভুল-ত্রুটি শনাক্ত করে স্থায়ী সমাধান করা যায়।”

কার্ড বিতরণে প্রান্তিক মানুষের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রাপকেরা এই কার্ড পেয়ে খুশি হয়েছেন। তবে যেহেতু বিতরণ ওয়র্ড ভিত্তিক, তাই পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ড, ইউনিয়ন বা উপজেলার মানুষও সুবিধা পাবার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করছেন। এই চাহিদাই প্রমাণ করছে যে আমাদের ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম সফলভাবে লক্ষ্য অর্জন করছে। সরকার গঠনের শুরুতেই এটি হাতে নেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে আমাদের দায়বদ্ধতার প্রমাণ।”

তিনি আরও জানান, এ কর্মসূচির প্রধান কাজ হচ্ছে উপকারভোগীদের কাছে ঠিকমতো টাকা পৌঁছানো। অর্থাৎ যার টাকা সে যেন সরাসরি পায়। এটি নিশ্চিত করতে প্রতিদিন ডেটা ফাইন্ডিং করা হচ্ছে। গত ১৬ মে চাঁদপুর থেকে এই কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আরও ২০টি ওয়ার্ডে এই কার্ড চালু করা হয়।

ফারজানা শারমিন আরও জানান, আগামী জুনে তৃতীয় ধাপে আরও ১৮টি উপজেলায় এ কর্মসূচি শুরু করা হবে। এসব এলাকায় মাঠ পর্যায় থেকে সুবিধাভোগী নির্বাচন করে কার্ড বিতরণ করা হবে।

ইউরোপ বা আমেরিকার আদলে বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘সোশ্যাল কার্ড’ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এরই অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি ট্রি’ নামের একটি পারিবারিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। ফলে একটি একক ডিজিটাল আইডির অধীনেই জানা যাবে কোন কোন পরিবার রাষ্ট্র থেকে কী কী সুবিধা পাচ্ছে। এতে করে এক ব্যক্তি একসঙ্গে দুটি ভাতা নিতে পারবেন না। তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রয়োজনীয় কার্ড বা প্রতিবন্ধী ভাতা সচল থাকবে।

তিনি আরও জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মাসিক ভাতা ২ হাজার ৫০০ টাকা। তবে যারা বর্তমানে ৫০০ বা ১০০০ টাকার বয়স্ক বা বিধবা ভাতা পাচ্ছেন, তারা নতুন এই কার্ড নিতে চাইলে আগের ভাতাটি সারেন্ডার বা ত্যাগ করতে হবে।

ভবিষ্যতে কৃষক ও হেলথ কার্ডসহ সব সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড একীভূত করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এজন্য একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। সামাজিক বাস্তবতায় একই পরিবারে কৃষক, গর্ভবতী মা কিংবা বিধবা থাকতে পারেন। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার সময় যদি দেখা যায়, উপযুক্ত নারীটি ইতোমধ্যে বিধবা বা বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন, তবে ডাবল বুকিং বন্ধের নিয়ম অনুযায়ী তাকে আগের কম অঙ্কের কার্ডটি সারেন্ডার করতে হবে। তবে তার স্বামী যদি কৃষক কার্ড নেন বা অন্য কেউ প্রতিবন্ধী ভাতা পান, তাহলে তা সচল থাকবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সব মন্ত্রণালয় মিলে এমন একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করতে চাই, যাতে এক ক্লিকে বা একটি কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে উপকারভোগীর সমস্ত তথ্য চলে আসে এবং ডেটাবেজটি সরাসরি এনআইডি যুক্ত থাকে। এটি করতে পারলে ভাতা নিয়ে যেসব বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়—বিশেষ করে একজনের নামের কার্ডের টাকা অন্যজনের অ্যাকাউন্টে চলে যায়, সেই অনিয়ম পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে।

কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, এটি সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক উপায়ে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ বা পিএমটি মেথডে করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এই পদ্ধতিতে আবেদনকারীর জীবনযাত্রার মান, ঘরে টেলিভিশন বা ফ্রিজ আছে কিনা কিংবা বাড়ির ছাদের অবস্থা কেমন—এমন নানা সূচকে স্কোরিং করা হয়। স্কোর ৮১৪-এর নিচে থাকা ‘অতি দরিদ্র’ পরিবারগুলোই কেবল এই কার্ডের জন্য নির্বাচিত হবে।

ফারজানা শারমিন বলেন, আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার হল প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা। এই ফ্যামিলি কার্ডের মূল লক্ষ্যই গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দিয়ে তাদের সক্ষমতা বাড়ানো।

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে মাঠপর্যায়ের কিছু বিচ্ছিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, পাইলটিংয়ের উদ্দেশ্যই হল সমস্যাগুলো খুঁজে বের করা। যেখানেই অনিয়ম বা কার্ডের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, দ্রুত সেখানে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছি। সম্প্রতি উত্তরাঞ্চলে একজনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। সরকার ও উপকারভোগীর মাঝখানে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী সহ্য করা হবে না। এ বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল রয়েছি।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram