ঢাকা
logo
প্রকাশিত : May 18, 2026

হামে আক্রান্ত শিশুদের সামনে আরও বিপদ!

হামে আক্রান্ত শিশুরা দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার ভেতর দিয়ে যাবে। দেশে যে রোগগুলো নির্মূল হয়ে গিয়েছিল, তা আবার ফিরে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, ‘একটা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব হলে সহজে বোঝা যায় ঐ দেশের শিশুদের মধ্যে ইমিউনাইজেশন কমে গেছে। ফলে হামে আক্রান্ত ঐসব শিশুর মধ্যে যে কোনো রোগ সহজে সংক্রমণ হতে পারে। যেমন পোলিও ফিরে আসতে পারে, নবজাতকের ধনুষ্টংকার ফিরে আসতে পারে, হেপাটাইটিস-বি, যা আমাদের দেশের শিশুদের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে ছিল—এটি আবার ফিরে আসতে পারে।

এছাড়া সম্প্রতি গাইবান্ধায় বেশ কয়েক জন জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে দেখেছি আমরা। অনুরূপভাবে—কালাজ্বর, ম্যালেরিয়া, যক্ষা, কুষ্ঠ, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি—এ ধরনের অনেক রোগ আমাদের দেশে নিয়ন্ত্রণে ছিল, নির্মূল হয়েছিল—সেগুলো আবার নতুন করে দেখা দিতে পারে।’ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই রোগগুলো ফিরে আসবেই, এটা একদম নিশ্চিত; এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। সরকারের উচিত হবে, এটা নিয়ে আলোচনা করা এবং বিকল্প কর্মসূচি প্রণয়ন করা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, ‘আমাদের ওপিগুলো (আউটপেশেন্ট প্রোগ্রাম) বন্ধ হওয়ার ফলে জনস্বাস্থ্যের যে বিভিন্ন কর্মসূচি, সেগুলো বাধাগ্রস্ত হওয়ায় অনেকগুলো রোগ আছে—যেগুলো আমরা অনেকভাবে নির্মূল করেছিলাম, অথবা নিয়ন্ত্রণ করেছিলাম, সেই রোগগুলো ফিরে আসতে পারে। এর মধ্যে জলাতঙ্কের কথা বলা যেতে পারে। আগে জলাতঙ্কে বছরে প্রায় ২০০০ মানুষ মারা যেত। সেটা এই কর্মসূচির ফলে কমে ১০০-এর নিচে নেমে এসেছিল। অর্থাত্ ৯৫ ভাগ জলাতঙ্ক রোগ কমে এসেছিল। সেটা এখন ফিরে আসছে। অনুরূপভাবে—কালাজ্বর, ম্যালেরিয়া, যক্ষা, কুষ্ঠ, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, এ ধরনের অনেক রোগ আমাদের দেশে নিয়ন্ত্রণে ছিল, নির্মূল হয়েছিল—সেগুলো আবার নতুন করে দেখা দিতে পারে এবং জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হতে পারে।’

এদিকে জনস্বাস্থ্য টিকা বিশেষজ্ঞ ডা. তাজুল ইসলাম এ বারী বলেন, হাম-রুবেলার টিকার ঘাটতি সব সময় ছিল। অন্যান্য টিকারও ঘাটতি ছিল। টিকা নতুন করে আসতে শুরু করেছে ৬ মে থেকে। যে রোগগুলো নির্মূল হয়েছিল, সেগুলো আবার ফিরে আসতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পোলিও আসতে পারে, নিউনেটাল টিটেনাস বা নবজাতকের ধনুষ্টংকার আসতে পারে। অথচ পোলিও মুুক্তর সার্টিফিকেট আমরা পেয়ে গেছি ২৭ মার্চ ২০১৪ সালে। হেপাটাইটিস-বি আমাদের দেশে কন্ট্রোলে আছে বলে ২০১৯ সালের ২৬ জুলাই দক্ষিণ এশিয়া আমাদের একটা সাটিফিকেট দিয়েছে যে—বাংলাদেশের শিশুদের মধ্যে হেপাটাইটিস বি কন্ট্রোলে আছে। রুবেলা ২০১৮ সালে কন্ট্রোল হয়ে গেছে। এগুলো আবার ফিরে আসতে পারে।’

কারণ হিসেবে এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, মিজলস শিশুদের ইমিউন সিস্টেম (রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা) নষ্ট করে দিয়েছে, ফলে তাদের নিউমোনিয়া হতে পারে, এখন যেটা শিশুদের হচ্ছে, ডায়রিয়াও হতে পারে, মস্তিষ্কে প্রদাহ হতে পারে। এই টিকা বিশেষজ্ঞ জানান, মিজলসের যখন আউট ব্রেক হয়; তখন বুঝে নেওয়া হয় যে, দেশে ইমিউনাইজেশন ঠিকমত চলেনি, বা হয়নি এবং স্বাস্থ্য সিক্টেমে বিরাট একটা গ্যাপ দেখা গেছে, বা বাংলাদেশের হেলথ সিস্টেম দুর্বল হয়ে গেছে। বাংলাদেশের শিশুদের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে গেছে। মিজলসের আউটব্রেক এটিরই ইঙ্গিত দেয়।

অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, হাম থেকে নানা ধরনের জটিলতা হতে পারে। সবচেয়ে বড় জটিলতা হচ্ছে অপুষ্টিতে ভোগা এবং রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া। এছাড়া কারো চোখের ক্ষতি হতে পারে, রাতকানা রোগ হতে পারে। কারো কারো মস্তিষ্কে প্রভাব পড়তে পারে। এনকেফেলাইটিস হতে পারে। মানসিক-শারীরিক বিকাশ কম হতে পারে—এমন বহুমাত্রিক জটিলতা দেখা দিতে পারে, হাম থেকে বেঁচে যাওয়ার পরও। তিনি বলেন, সত্যিকার অর্থে হাম একটি মারাত্মক রোগ। এতে শুধু শিশু মারাই যায় না, যারা বেঁচে যায়, তাদেরও নানাধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা হতে পারে। সরকারকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে—ওপির বিকল্প কী থাকবে, যার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য এই কর্মসূচিগুলো চালিয়ে নেওয়া যায়। এর বিকল্পগুলো অবশ্যই বের করতে হবে। সেটা বের করা কঠিন, আবার অনেকগুলো করাই যাবে না। কিন্তু না করা গেলে এই রোগগুলো ফিরে আসবেই; এটা একদম নিশ্চিত, কোনো সন্দেহ নেই। টুডে অর টুমরো এই রোগগুলো আবার ফিরে আসবে। সরকারের উচিত হবে এটা নিয়ে আলোচনা করা এবং বিকল্প কর্মসূচি প্রণয়ন করা।

ডা. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ত্বরিত্ ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকার হয়তো নিচ্ছে। ত্বরিত্ ব্যবস্থার জন্য এমআর টিকা দিতে হবে। টিকার ক্যাম্পেইন চলবে কিন্তু আসল কথা হচ্ছে—আমাদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ১০০ জন শিশুর মধ্যে ৯৫ জনের টিকা নিশ্চিত করতে হবে। এটা ৬৪ জেলাতেই করতে হবে। শিশুদের পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে, শিশু মায়ের বুকের দুধ পেলে, তাকে মায়ের দুধ দিতে হবে। ভিটামিন-এ দিতে হবে।’ তাহলে শিশুর রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার হবে বলে জানান এই টিকা বিশেষজ্ঞ।

সারা দেশের হাম পরিস্থিতি :এদিকে সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ছয় শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে পাঁচ শিশু এবং নিশ্চিত হামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ২৪৩ শিশু এবং সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৭৪ শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৫৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৭৫ শিশুর এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৮৪ শিশু। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৭ হাজার ৭৬৭ শিশু। আর সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৭ হাজার ৮৪৬ শিশু।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram