

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কার, অনিয়ম বন্ধ, সেশনজট নিরসন এবং দ্রুত পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশের দাবিতে অবস্থান কর্মসূ্চি পালিত হয়েছে। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
তাদের অভিযোগ, ২০১৮-১৯ সেশনের চতুর্থ বর্ষ ফাইনাল পরীক্ষা-২০২২ সেশনজটের কারণে ২০২৪ এ হলেও সেটি অসংগতিপূর্ণ। বিশেষ বিবেচনায় ফলাফল পুনর্মূল্যায়ন করে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ফলাফল প্রদানের দাবি জানান তারা।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট এবং ফলাফল বিপর্যায়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং ৮ দফা দাবি জানান।
তাদের ৮ দফা দাবি হলো–
১. দীর্ঘ সেশনজটে আটকে থাকা পূর্ণ মূল্যায়নের ফলাফল বিশেষ বিবেচনায় এক দুই বিষয়ের ফলাফল মূল্যায়িত করা এবং সেটি আগামী ৭ কার্যদিবসের ভেতর। পূর্ণ মূল্যায়নের ফলাফলের সেশনজট তৈরি করে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ করে উল্লিখিত সময়ের ভিতর পূর্ণ মূল্যায়নের ফলাফল প্রকাশিত না হলে সেই ফলাফলকে বর্জন করবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
২. পূর্ণ মূল্যায়নের ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর যে সকল শিক্ষার্থীরা এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্য থাকবে তাদেরকে মাস্টার্সের সাথে সামঞ্জস্য করে ভর্তি হওয়ার সুযোগ প্রদান করতে হবে।
৪. যে সকল শিক্ষকরা যা ইচ্ছা তা খাতা দেখেন খাতার সঠিক মূল্যায়ন করেন না, তাদের গাফিলতি ও অনিয়মের কারণে শিক্ষার্থীদের জীবন বিপর্যস্ত হয় সেই সকল শিক্ষকদের তালিকা তৈরি করে শিক্ষার্থীদের সামনে প্রদর্শন করতে হবে এবং শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. যে সকল শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সেশনজট, ভুতুড়ে ফলাফল কারণে শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেই সকল ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে গ্রহণ করতে হবে।
৬. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র সমূহ ভেঙে দিয়ে আঞ্চলিক প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচালনা করতে হবে। প্রত্যেক আঞ্চলিক প্রশাসনিক কেন্দ্রের জন্য আলাদা ডিন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রক্টর থাকবেন যা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
৭. নিয়মিত সেশনজট মুক্ত পরীক্ষা ও নিয়মিত সমাবর্তনের আয়োজন করতে হবে।
৮. দাবি সমূহ না মানলে এবং ফলাফল দ্রুত আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে বিশেষ বিবেচনায় প্রদান না করলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্মিলিত ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করছি।
