

মেম্বার থেকে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান—এবার ওয়াসা বোর্ডের নেতৃত্বে আলহাজ্ব ইদ্রিস মিয়া।-
নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের পটিয়ার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে জনসম্পৃক্ত নেতা হিসেবে পরিচিত আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া এবার দায়িত্ব পেয়েছেন চট্টগ্রাম ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে পথচলা শুরু করা ইদ্রিস মিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য থেকে একাধিকবার চেয়ারম্যান এবং পরবর্তীতে অবিভক্ত পটিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং এলাকার সমস্যা নিয়ে কাজ করার মধ্য দিয়ে পটিয়ার রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেন তিনি।
২০১০ সালের পটিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ইদ্রিস মিয়া চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তৎকালীন সংবাদ প্রতিবেদনে ওই নির্বাচনে তিনি ৮৮ হাজার ৮৬৯ ভোট পেয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসেন। ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বিএনপির চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটিতে তাঁকে আহ্বায়ক করা হয়। পরে ৫৪ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটিতেও তিনি আহ্বায়কের দায়িত্বে বহাল থাকেন।
এবার চট্টগ্রাম ওয়াসার চেয়ারম্যান
দীর্ঘ রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধিত্বের পথ পেরিয়ে ইদ্রিস মিয়া এবার চট্টগ্রাম ওয়াসার নেতৃত্বে এসেছেন।
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মো. ইদ্রিস মিয়াকে তিন বছরের জন্য চট্টগ্রাম ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ৭(১) ধারার উল্লেখ রয়েছে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর ওয়াসার কার্যক্রমে নগরবাসীর নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, গ্রাহকসেবার মান বাড়ানো এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ইদ্রিস মিয়া। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর কথাও বলেছেন তিনি।
সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ
চট্টগ্রাম ওয়াসার নতুন চেয়ারম্যানের সামনে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। নগরবাসীর জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, চলমান প্রকল্পের গতি বাড়ানো, গ্রাহকসেবা সহজ করা এবং রাজস্ব আদায় বাড়ানো—সবকিছুতেই কার্যকর ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।
দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা নতুন দায়িত্বে কতটা কাজে আসে, সেদিকেও নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।
জনপ্রতিনিধিত্ব থেকে জনসেবা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে
ইদ্রিস মিয়ার রাজনৈতিক পথচলায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিত্বের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। একজন ইউপি সদস্য হিসেবে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং পরে দলীয় নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতৃত্বে থাকার সময়ও বিভিন্ন স্থানীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁকে সক্রিয় দেখা গেছে। ২০২৫ সালে পটিয়ায় পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কর্মসূচিতেও তিনি বক্তব্য দেন।
এখন তাঁর দায়িত্বের পরিধি আরও বড়। চট্টগ্রাম ওয়াসার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসেবা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বিভিন্ন বিষয়ে তাঁকে কাজ করতে হবে।
প্রত্যাশা এখন কাজের
ইদ্রিস মিয়ার নতুন দায়িত্বকে ঘিরে চট্টগ্রামবাসীর প্রত্যাশাও রয়েছে। দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধিত্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ওয়াসার সেবা আরও জনবান্ধব করা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং চলমান প্রকল্পগুলো কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়াই এখন বড় বিষয়।
বিশেষ করে পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, গ্রাহকসেবা ও উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতিই হবে তাঁর নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ক্ষেত্র।
মেম্বার থেকে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, সেখান থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান, এরপর দলীয় নেতৃত্ব এবং এখন চট্টগ্রাম ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান—ইদ্রিস মিয়ার দীর্ঘ পথচলায় যুক্ত হলো নতুন অধ্যায়। এখন তাঁর অভিজ্ঞতা চট্টগ্রাম নগরবাসীর সেবায় কতটা প্রতিফলিত হয়, সেটিই দেখার বিষয়।
