

দীর্ঘ ২১ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ও হাইভোল্টেজ দ্বৈরথ পরিচালনা করতে মাঠে নামছেন ৪৪ বছর বয়সী মরোক্কান-আমেরিকান রেফারি ইসমাইল আলফাত।
বুধবার (১৫ জুলাই) আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই মেগা ম্যাচে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজের চতুর্থ ম্যাচে বাঁশি বাজানোর অভিজ্ঞতা অর্জন করতে যাচ্ছেন তিনি। এর আগে গ্রুপ পর্বে জাপান-নেদারল্যান্ডস (২-২) এবং স্পেন-উরুগুয়ে (১-০) ম্যাচের পাশাপাশি শেষ ষোলোতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নরওয়ের ২-১ ব্যবধানের চোখধাঁধানো ঐতিহাসিক জয়ের ম্যাচটিও অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেছিলেন টেক্সাসের অস্টিনে বসবাসকারী এই ফিফা তালিকাভুক্ত ম্যাচ অফিসিয়াল।
মরোক্কোয় জন্মগ্রহণকারী আলফাতের যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বমঞ্চে আসা এবং রেফারি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার গল্পটি বেশ রোমাঞ্চকর। ২০০১ সালে ডাইভারসিটি ভিসা বা লটারি প্রোগ্রামের মাধ্যমে ১৭ বছর বয়সে মরোক্কো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। পরবর্তীতে টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন এবং দীর্ঘ সময় পূর্ণকালীন আইটি সেলস পেশায় যুক্ত ছিলেন। নিজের খেলোয়াড়ি জীবনে অস্টিন লাইটনিং দলের হয়ে স্টাইকার হিসেবে খেলার সময় ম্যাচ রেফারিদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে লীগ আয়োজকের পরামর্শে নিজেই রেফারির ট্রেনিং নেওয়া শুরু করেন তিনি। স্থানীয় স্কুল ও সেমি-প্রো লীগের গণ্ডি পেরিয়ে ২০১২ সালে মেজর লীগ সকার (এমএলএস)-এ রেফারি হিসেবে অভিষেক ঘটে তার।
২০১৬ সালে ফিফা আন্তর্জাতিক রেফারির স্বীকৃতি পাওয়া আলফাত বিশ্ব ফুটবলের এক ঐতিহাসিক ঘটনারও মূল সাক্ষী। ২০১৬ সালে নিউ ইয়র্ক রেড বুলস এবং অরল্যান্ডো সিটির মধ্যকার ম্যাচে ফুটবল ইতিহাসের সর্বপ্রথম অন-ফিল্ড ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি পরিচালনা করেছিলেন তিনি নিজেই। ২০২০ ও ২০২২ সালে এমএলএস-এর বর্ষসেরা রেফারির পুরস্কার জেতা এই অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মরোক্কান-আমেরিকান রেফারি আটলান্টায় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের উত্তপ্ত যুদ্ধ সামলাতে বাঁশি হাতে মাঠে নামবেন।
