

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক গবেষণার উদ্দেশ্যে আট মাসের মিশনে মহাকাশে গেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাসার মহাকাশচারী অনিল মেনন। এই মিশনে তিনি দীর্ঘ সময় মহাকাশে অবস্থানের ফলে মানবদেহে যে শারীরিক পরিবর্তন ঘটে, তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করবেন।
নাসার এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য ভবিষ্যতে চাঁদ ও মঙ্গলগ্রহে দীর্ঘমেয়াদি মানব অভিযানকে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করে তোলা। দীর্ঘ সময় মহাকাশে থাকার ফলে হাড়ের ঘনত্ব, পেশিশক্তি, হৃদ্যন্ত্র, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে গবেষণা করবেন অনিল মেনন ও তার সহকর্মীরা।
অনিল মেননের বাবা শঙ্করন মেনন ভারতের কেরালার পালাক্কড় জেলার ওট্টাপালামের বাসিন্দা ছিলেন। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হন এবং ইউক্রেনীয় নাগরিক এলিজাবেথ স্যাময়লেঙ্কোকে বিয়ে করেন। তাদের সন্তান অনিল মহাদেবন স্যাময়লেঙ্কো মেননের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে।
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী অনিল মেনন পেশায় একজন চিকিৎসক। পাশাপাশি তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, ইউএস স্পেস ফোর্সের ফ্লাইট সার্জন এবং দক্ষ পাইলট। পরবর্তীতে তিনি নাসার মহাকাশচারী হিসেবে নির্বাচিত হন।
এই অভিযানে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে তার সঙ্গে রয়েছেন একজন রুশ মহাকাশচারী। আট মাসব্যাপী এই মিশনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও অভিজ্ঞতা অর্জনের আশা করছে নাসা।
অনিল মেননের এই সাফল্যে গর্বিত কেরালার পালাক্কড় জেলা। এই জেলার সঙ্গে আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম জড়িয়ে আছে। কিংবদন্তি অভিনেতা ও তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম. জি. রামচন্দ্রন, কূটনীতিক ও রাজনীতিবিদ শশী থারুরের পারিবারিক শিকড়ও এই জেলায়। এছাড়া প্রখ্যাত কথাকলি শিল্পী রামনকুট্টি নায়ার এবং ভারতের গগনযান কর্মসূচির জন্য নির্বাচিত মহাকাশচারী প্রশান্ত বালাকৃষ্ণণ নায়ারও পালাক্কড়ের বাসিন্দা।
অনিল মেননের এই মহাকাশ মিশন শুধু ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের জন্যই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে মহাকাশ গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
