

ক্রীড়া প্রতিবেদক : প্রতিপক্ষ বা নির্দিষ্ট কাউকে চাপে ফেলতেই কি তিনি এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন? এরপর কথা আর বাড়তে দিলেন না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক আদনান রহমান, ‘আমি স্বজ্ঞানে আবারও একই কথা বলছি। অন্য কিছুই বোঝাতে চাইনি। খুব স্বচ্ছভাবে আমার কথাগুলো বলেছি।’ একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে বলা কথাগুলো এই সুযোগে আরেকবার মনে করিয়ে দিলেন ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের (সিসিডিএম) দায়িত্বে থাকা এই পরিচালক, ‘বিসিবির (৬ অক্টোবরের) নির্বাচনের আগের ক্রিকেট বোর্ডে পাঁচ মাসে যে পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে, সেটির অনুপাত হিসাব করলে নাজমুল হাসানের আমলকে ছুঁয়ে ফেলবে।
‘সাগরচুরি’ নিয়ে দুই রকম বক্তব্যএই বোর্ড পরিচালকের কাছে দ্বিতীয়বার তাঁর কথাগুলো শুনতে চাওয়ার কারণ গতকাল আরেক পরিচালক ইফতেখার রহমানের বক্তব্য। তাঁর ধারণা, টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে নিজের কথাগুলো ঠিকঠাক গুছিয়ে বলতে পারেননি আদনান। রংপুর রাইডার্স বিএসজেএ মিডিয়া কাপ-২০২৫ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইফতেখার বলেন, ‘যে দুর্নীতির কথা তিনি (আদনান) বলেছেন, পূর্বাচল মাঠে আমাদের একটা ঝামেলা হয়েছে—ওই ব্যাপারে হতে পারে। হয়তো গুছিয়ে বলতে পারেননি।
আমার জানা মতে কোনো তদন্ত কমিটি (এর বাইরে দুর্নীতি নিয়ে) হয়নি। হয়েছে শুধু পূর্বাচল মাঠের মাটি চুরি হওয়া নিয়ে।’
বোর্ড পরিচালকদের মধ্যে এই টানাপোড়েন শুরু হয়েছে যমুনা টিভির একটি টক শোতে। গত শনিবার রাতে সেখানে অতিথি হিসেবে গিয়ে হঠাৎই বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেন আদনান, ‘ফারুক আহমেদ (সাবেক সভাপতি) চলে যাওয়ার পর থেকে আমরা বোর্ডে আসার আগ পর্যন্ত কারা কী করেছে, সবকিছু কিন্তু সামনে আসবে।
একজন বোর্ড পরিচালক হিসেবে শতভাগ নিশ্চিত করে বলছি, পাপনের (নাজমুলের) ১৫ বছরে যা হয়েছে, সেটার সমান না হলেও কাছাকাছি দুর্নীতি হয়েছে ওই পাঁচ মাসে। অডিট কিন্তু বসে গেছে। ফলাফল এসে যাবে, তখন দেখবেন।’
৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পদত্যাগ করে দেশান্তরি হয়েছেন নাজমুল হাসানসহ বেশ কয়েকজন পরিচালক। এরপর দায়িত্ব নেন ফারুক।
তবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মনোনীত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির চাহিদা মেনেই হঠাৎ সরে যেতে হয় তাঁকে। এরপর নির্বাচনের আগে পাঁচ মাস সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন আমিনুল ইসলাম। ইফতেখারসহ ওই বোর্ডের তিনজন পরিচালক এখনো বর্তমান পরিচালনা পর্ষদেও আছেন। নাজমুল আবেদীন ফাহিম ও মনজুর আলমের দিকেও কি তোপ দাগলেন আদনান? তদন্ত চলমান আছে জানিয়ে অবশ্য কৌশলী পথেই হাঁটলেন তিনি, ‘আমি কারো নাম নিতে চাই না। কোথায় কী হয়েছে, সব সামনে চলে আসবে। ফ্যাসিলিটিজ, সিকিউরিটিজ, গ্রাউন্ডস, লজিস্টিকস—সবখানেই হরিলুট হয়েছে।’ একটি উদাহরণও দিলেন আদনান, ‘দুই বছর আগে যে প্রতিষ্ঠান নিষিদ্ধ হয়ে গেছে, সেখানকার ওয়াকিটকি কেনা হয়েছে অবিশ্বাস্য দামে।
এমন আরো অনেক কিছু আপনারা জানতে পারবেন।’আগামী ২৪ ডিসেম্বর বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের পরবর্তী সভা হওয়ার কথা। সেদিন আমিনুলের সভাপতিত্বে এই পাঁচ মাসের দুর্নীতির ‘সাগরচুরির’ অডিট-চালান পাস হবে বলে দাবি আদনানের। তবে এসব বিষয়ে কিছুই জানা নেই আরেক পরিচালক ইফতেখারের, ‘আমার কাছে এর কোনো জবাব নেই। উনিই ভালো বলতে পারবেন। তদন্ত করলেই তো সব বের হয়ে আসবে। ১৫ বছরের খরচ আর ছয় মাসের খরচ তো এক নয়। যদি ১৫ বছরে ১০০ কোটি টাকা খরচ হয়ে থাকে, ছয় মাসে হয়তো ২০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। সুতরাং উনি কী হিসাবে বলেছেন (সমান দুর্নীতি), সেটি আমি বলতে পারব না। আমি যেটুকু বলতে পারি, আমিনুল ইসলাম আসার পরে এখানে সবকিছুই খোলামেলা।’
এদিকে পূর্বাচল মাঠের উইকেট তৈরির মাটি চুরি নিয়ে চলমান তদন্তেও অনেকে ফেঁসে যাবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন আদনান। বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির সহসভাপতির দায়িত্বেও থাকা এই পরিচালক বললেন, ‘এটি নিয়ে এরই মধ্যে আমাদের একটি তদন্ত কমিটি কাজ করেছে। ২৪ তারিখের বোর্ড মিটিংয়ের পর সেটি আরো গতিশীল হবে। আমি জানিয়ে রাখছি, সবকিছুই (দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের নাম) আপনারা জেনে যাবেন।’
