

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: আমার ছোট্ট মেয়েটির জন্য আমি পৃথিবীর আলো-বাতাসে বেঁচে থাকতে চাই। আমার অবর্তমানে সে এতিম হয়ে যাবে। নিস্পাপ মেয়েটির মুখের দিকে তাকালেই মনে হয়, আমাকে বাঁচতে হবে কিন্তু উপায়ই বা কি? বাঁচতে গেলে যে চিকিৎসার জন্য অনেক ব্যয় করতে হবে, যা আমার সামর্থের বাইরে। রোগাক্রান্ত এবং দুর্বল কন্ঠে আস্তে আস্তে উপরোক্ত কথাগুলো বলছিলেন, দুরারোগ্য কিডনি রোগে আক্রান্ত মো.সজিব মিয়া (২৮)। অন্তত একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করতে পারলে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে সজিব। পূর্ণ হবে তার নিষ্পাপ কন্যা সন্তানের বেঁচে থাকার স্বপ্ন, ফিরে পাবে সে তার বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবার পরিজনকে।
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলাধীন রমনা ইউনিয়নের সরকারপাড়া এলাকার কৃষক মো.দেলোয়ার হোসেন ও গৃহিনী মোছা. মেহেনা বেগম দম্পতির চার ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে মো.সজিব মিয়া (২৮)। দীর্ঘ নয় বছর ধরে ক্রনিক কিডনি ডিজিজে (CKD-4) ভুগছেন তিনি। বর্তমানে তাঁর দুই কিডনির কার্যক্ষমতা অনেক কমে গেছে। চিকিৎসকরা কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন কিন্তু দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ব্যয় মিটাতে নিঃস্ব হয়ে পড়া পরিবারটির পক্ষে প্রতিস্থাপনের খরচ জোগাড় করা এখন অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছে।
চিকিৎসকের তথ্য অনুযায়ী, সজিবের ডান কিডনি ১৭.১ শতাংশ ও বাম কিডনি ১১.৬ শতাংশ মিলে মোট ২৮.৭ শতাংশ কার্যক্ষম। কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য উপযুক্ত ডোনার পাওয়া গেলে প্রায় ৭-৮ লক্ষ টাকা এবং ডোনার না পাওয়া গেলে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।
সজিবের ৭৫ বছর বয়সী বাবা আগে কৃষিকাজ করতেন। বয়সের ভারে এখন আর নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। স্থানীয় একটি মসজিদে খাদেমের দায়িত্ব পালন করে যা আয় করেন, তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন। ছেলেকে নিজের একটি কিডনি দিতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বয়স ও শারীরিক জটিলতার কারণে চিকিৎসকরা তাঁকে ডোনার হিসেবে উপযুক্ত মনে করেননি।
সজিব জানায়, ২০১৭ সালে ৯ অক্টোবর তারিখে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে তার কিডনি ক্রিয়েটিনিন ১৫। এর পর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পর্যায়ক্রমে দুইবার ভারতের চেন্নাই অ্যাপোলো হাসপাতালেও গিয়েছিলেন তিনি। চিকিৎসার পিছনে তার দরিদ্র বাবা-মা তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অন্তত ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয় করেছেন।
অসুস্থ হওয়ার আগে গাজীপুর ও ঢাকায় তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন সজিব মিয়া। নিজের আয়ে বাবা-মায়ের সংসারেও সহযোগিতা করতেন তিনি। বর্তমানে অসুস্থতার কারণে শারিরীকভাবে অক্ষম হয়ে পড়ায় স্ত্রী ও আড়াই বছর বয়সের সন্তানকে নিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি নিজের চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
আড়াই বছর বয়সের ফুটফুটে সোনামনির ভবিষ্যতের কথা ভেবে পৃথিবীর আলো-বাতাসে বেঁচে থাকতে চায় সজিব মিয়া। আর এজন্য বিত্তশালীদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি। যোগাযোগ মো.সজিব মিয়া-০১৯৯৮-৪৫০৪৭০(নগদ ও বিকাশ)। সোনালী ব্যাংক, চিলমারী শাখার হিসাব নং-৫২০৪৩০১০২৪৩২২।
