

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ সোনারপুরে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার বাড়িতে হামলা শিকার তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার (৩০ মে) অভিষেকের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখলেন, ‘শাসকই ঘাতক হয়ে উঠল। লজ্জা হওয়া উচিত বিজেপির।’
গোটা ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছে জাতীয় স্তরে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র শরিকরাও। এক্স হ্যান্ডলে বিজেপির নিন্দায় সরব হয়েছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে।
তবে সোনারপুরের ঘটনা বিজেপির যোগসূত্র নেই দাবি করে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘ তৃণমূল দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় গত পাঁচ বছর ধরে যে অত্যাচার করেছে, তাতে বিজেপি চাইলে, এখন তৃণমূলের নেতারা বাড়ি থেকেই বের হতে পারতেন না। বিজেপি সংযম দেখিয়েছে বলেই তৃণমূলের নেতারা এভাবে বের হতে পারছেন।’
অভিষেকের ওপর হামলার প্রতিবাদে সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে বিবৃতি দিয়েছে তৃণমূল। এক্সে লেখা হয়েছে, ‘নৃশংস আক্রমণের পরেও সঞ্জু কর্মকারের শোকাহত পরিবারকে পরিত্যাগ করতে চাননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতিদের সামনে আমাদের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুখ ফিরিয়ে নেননি। বরং তিনি বিজেপি-সমর্থিত গুণ্ডাদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সহানুভূতির রাজনীতি এবং ঘৃণার রাজনীতির মধ্যে এটাই পার্থক্য।’
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশে লেখা হয়েছে, ‘আজকের ঘটনা আবারো আপনার রাজনীতির ধরনকে উন্মোচিত করেছে, যা ভীতি প্রদর্শন, হিংসা এবং প্রতিহিংসার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।’
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে লিখেছেন, ‘রাজ্যে নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে সোনারপুরে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে হামলার শিকার হয়েছেন, তার তীব্র নিন্দা জানাই।
এক জন বিশিষ্ট বিরোধী নেতার জন্য ইচ্ছাকৃত ভাবে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তার অভাব বিজেপির প্রতিহিংসা ও নিপীড়নের রাজনীতির কথাই স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে অবশ্যই সব বিরোধী নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং এই ধরনের হামলা প্রতিরোধে অবিলম্বে পদক্ষেপ করতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য কোনও ধরনের হিংসাকে ন্যায্য করে তুলতে পারে না।’
সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব লেখেন, ‘বাংলার তৃণমূলের এক জন বিশিষ্ট নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার প্রমাণ করেছে যে, তারা বিদ্বেষপূর্ণ, নেতিবাচক ও হিংসাত্মক রাজনীতি করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারে না। এমন একটি সংবেদনশীল পরিবেশে পুলিশের অনুপস্থিতি একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করে। অত্যন্ত নিন্দনীয়!’
