ঢাকা
২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সকাল ১১:০২
logo
প্রকাশিত : মার্চ ৩১, ২০২৬

ভারতে গ্রেপ্তার লস্কর সদস্যদের সাতজনই বাংলাদেশি

পাকিস্তানি চরমপন্থি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার আট সদস্যকে ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তারের পর দেশটির পুলিশ বলছে, তাদের সাতজনই বাংলাদেশি।

এ দলের নেতা শাব্বির আহমেদ লোনকেও গ্রেপ্তারের তথ্য পুলিশের বরাতে দিয়েছে ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম; যাতে বলা হয়েছে এ ব্যক্তি বাংলাদেশে পালিয়ে ছিলেন।

দুই মাস ধরে চালানো এক অভিযানে এদের বাংলাদেশ সীমান্ত, কলকাতা, দিল্লি এবং তামিলনাড়ু থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে সাতজন বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশ করা হয়। তারা হলেন- বগুড়ার মিজানুর রহমান (৩২), জাহিদুল ইসলাম (৪০), মোহাম্মদ লিটন (৪০), মোহাম্মদ উজ্জ্বল (২৭) ও উমর ফারুক (৩২), ঝালকাঠির মো. শাফায়েত হোসাইন (৩৪) ও ঠাকুরগাঁওয়ের রবিউল ইসলাম (২৭)।

গ্রেপ্তারদের স্থান থেকে পুলিশ ১০টি মোবাইল ফোন, ২৫টি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, ৫টি পয়েন্ট অব সেল (পজ) মেশিন, বাংলাদেশি পাসপোর্ট এবং বেশ কিছু পোস্টার উদ্ধার করেছে।

কাশ্মীরের শ্রীনগরের বাসিন্দা শাব্বির আহমেদ লোনকে ২০০৭ সালে দিল্লি পুলিশ একে-৪৭ রাইফেল ও গ্রেনেডসহ গ্রেপ্তারের কথা বলেছিল। তিনি জামিনের আগে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিহার কারাগারে ছিলেন।

পুলিশের দাবির বরাতে এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, এরপর তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে ছিলেন। সেখান থেকে নেপাল সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকে ছিলেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, লোনকে বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যিনি ঢাকার কাছের একটি আস্তানা থেকে লস্করের একটি সেল পরিচালনা করছিলেন।

পাকিস্তানি চরমপন্থি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বা যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ তালিকায় রয়েছে। এটির বিরুদ্ধে ভারতের পাশাপাশি পশ্চিমে বিভিন্ন হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ২০০৮ সালের নভেম্বরে মুম্বাইতে তিন দিনের প্রাণঘাতী হামলাও রয়েছে।

২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের ঘটনায় পাকিস্তানি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এর পাশাপাশি লস্কর-ই-তৈয়বার যোগসাজশের ইঙ্গিত থাকার কথা ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনআইএ) প্রাথমিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছিল এনডিটিভি।

ওই হত্যাকাণ্ডের পর লস্করের শাখা হিসেবে পরিচিত ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’কে (টিআরএফ) ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র।

এ গোষ্ঠীর একটি সেলের ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের বরাতে সোমবার এনডিটিভি বলছে, ২৯ মার্চ স্পেশাল সেল কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে মিলে দিল্লির গাজীপুর ড্রেনের কাছ থেকে লোনকে গ্রেপ্তার করে। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তৈয়বা গোষ্ঠীর একটি বাংলাদেশি মডিউল বা চক্রকে নির্মূল করেছে। একাধিক রাজ্যজুড়ে সন্ত্রাসবিরোধী এ অভিযান চালানো হয়। নেটওয়ার্কের মূল পরিকল্পনাকারী লোনসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ভারতের পুলিশের দাবি, চক্রটি ভারতে একটি বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, যা নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি দিল্লির জনপথ মেট্রো স্টেশনে সন্দেহভাজন কিছু পোস্টার দেখা যায়, সেই সূত্র ধরে এই অভিযানের শুরু হয়। ওই পোস্টারগুলোতে পাকিস্তানপন্থি স্লোগান, কাশ্মীর নিয়ে উসকানিমূলক বার্তা এবং জঙ্গি বুরহান ওয়ানির ছবি ছিল।

এনডিটিভি লিখেছে, পোস্টারগুলোতে উর্দুতে লেখা ছিল ‘আমরা পাকিস্তানি, পাকিস্তান আমাদের’ এবং ‘কাশ্মীর সংহতি দিবস’ এর উল্লেখ ছিল। পরে দিল্লির আরও বেশ কিছু এলাকায় একই ধরনের পোস্টার পাওয়া যায়। মামলাটি স্পেশাল সেলের হাতে ন্যস্ত করা হলে তারা নজরদারি, সিসিটিভি ফুটেজ, নিজস্ব সূত্র লাগিয়ে এবং ডিজিটাল ডাটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে তদন্ত শুরু করে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় অভিযানে এই চক্রের অন্যতম দুই সদস্য উমর ফারুক ও রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানের বর্ণনা দিয়ে এ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২১ ফেব্রুয়ারি তিরুপুরের একাধিক স্থানে একযোগে অভিযান চালিয়ে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আটজনের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি নাগরিক, যারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল। নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে তারা জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করছিল। গ্রেপ্তারদের বিশেষ করে উমর ফারুককে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই নেটওয়ার্কের কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসে।

এনডিটিভি লিখেছে, জিজ্ঞাসাবাবাদে উমর ফারুক তদন্তকারীদের জানান যে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে লোনের সঙ্গে তার প্রথম যোগাযোগ হয়। লোন ধীরে ধীরে তাকে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ করেন এবং ভারতে লস্কর-ই-তৈয়বার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব দেন। উমরকে বিশেষভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান রেকি করে ভিডিও করতে এবং এই নেটওয়ার্কে আরও বাংলাদেশিদের যুক্ত করতে। স্থানীয় পরিচিতদের মাধ্যমে ভারতের ভেতরে অস্ত্রের ব্যবস্থা করার নির্দেশও তাকে দেওয়া হয়েছিল।

পুলিশের বরাতে সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকারীরা জানতে পেরেছিলেন, ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে উমর ফারুক এবং তার এক সহযোগী দিল্লিতে গিয়ে প্রায় ১০টি ভিন্ন স্থানে পাকিস্তানপন্থি পোস্টার লাগিয়েছিলেন। তারা এই কাজের ভিডিও রেকর্ড করে তাদের ‘হ্যান্ডলার’ লোনকে পাঠিয়েছিলেন, যিনি তাদের কাজের প্রশংসা করেন এবং এ ধরনের অভিযান চালিয়ে যেতে বলেন।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বরাতে এনডিটিভি বলেছে, লোন সরাসরি পাকিস্তানে অবস্থানরত লস্কর-ই-তৈয়বার সিনিয়র হ্যান্ডলার আবু হুজাইফা, সুমামা বাবর এবং আব্দুল রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তিনি ভারতে সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক পুনর্প্রতিষ্ঠা করতে তাদের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছিলেন। এছাড়া তেহরিক-উল-মুজাহিদিন কমান্ডার আবু তালহা এবং ইউএপিএ আইনের অধীনে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী আসিফ দারের সঙ্গে লোনের যোগাযোগ ছিল।

এনডিটিভির এ প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সেলের দলনেতা লোনের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতে অনুপ্রবেশ করানো, তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা এবং সুবিধাজনক সময়ে বড় ধরনের হামলার জন্য ভারতে 'স্লিপার সেল' তৈরি করা।

সোমবার দিল্লির একটি আদালত লোনকে পাঁচ দিনের পুলিশি রিমান্ডে পাঠিয়েছে।

রিমান্ড আবেদনে দিল্লি পুলিশ তার বিরুদ্ধে ‘কট্টর ও উচ্চশিক্ষিত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সন্ত্রাসী’ হিসেবে কাজ করার অভিযোগ আনে, যিনি পাকিস্তানের আইএসআই এর হয়ে কাজ করা হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram