

ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় তারকা দম্পতি সুরিয়া ও জ্যোতিকা। ১৯৯৯ সাল ‘পুভিল্লাম কেটুপ্পার’ সিনেমায় প্রথমবার একসঙ্গে অভিনয় করেন। মুক্তির পর সিনেমাটি দারুণ সাড়া ফেলে। এ জুটির রসায়নে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন সিনেমাপ্রেমীরাও। তারপর জুটি বেঁধে আরো বেশ কিছু সিনেমা উপহার দিয়েছেন এই তারকা যুগল।
কিছু দিন আগে দ্য হলিউড রিপোর্টার-কে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সুরিয়া ও জ্যোতিকা। এ আলাপচারিতায় জ্যোতিকা তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের নানা স্মৃতি রোমন্থন করেছেন। এ অভিনেত্রী জানান, সেই সময়ে সুরিয়ার চেয়ে ৩ গুণ বেশি পারিশ্রমিক পেতেন তিনি। তখন অভিনেত্রী হিসেবে অনেকটা সফল ছিলেন। সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র অনেকটা বদলে গেছে।
জ্যোতিকা বলেন, “সেই সময়ে আমি ওর (সুরিয়ার) চেয়ে তিন গুণ বেশি পারিশ্রমিক পেতাম।” এরপর হাসতে হাসতে এই অভিনেত্রী বলেন, “আর এখন ওর চেয়ে ৩০ গুণ কম পাই।” সহধর্মিণীর এই বক্তব্য শুনে হেসে ওঠেন সুরিয়া।
‘৩৬ ভায়ধিনি’খ্যাত অভিনেত্রী স্বামীর প্রশংসা করে বলেন, “সুরিয়া একজন প্রকৃত ‘গ্রিন ফ্ল্যাগ’ মানুষ। আমাদের সম্পর্কে সবসময়ই সমতা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একজন মানুষ হিসেবে, স্বামী হিসেবে এবং অবশ্যই একজন অভিনেতা হিসেবে সুরিয়া অসাধারণ। তার চিন্তাভাবনায় সমতার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই রয়েছে। আমার মনে হয়, এটা তার জন্মগত একটি গুণ। ভেতর থেকে এই অনুভূতি না থাকলে, তা আচরণে প্রকাশ পায় না। নারী-পুরুষের সমতা নিয়ে সুরিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত। পারিবারিক জীবন ও সম্পর্কের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার প্রতিফলিত হয়।”
সুরিয়া-জ্যোতিকার দাম্পত্য জীবন কখনো প্রচলিত লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক ধারণা দিয়ে পরিচালিত হয়নি। বরং তারা সবসময় দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেওয়া, পরস্পরের সিদ্ধান্তকে সম্মান করার নীতিতে বিশ্বাস করেছেন। এসব তথ্য স্মরণ করে জ্যোতিকা বলেন, “আপনার সঙ্গে থাকা নারীকে আপনার বুঝতে হবে। সে যদি রান্না করতে না চান, তাহলেও সমস্যা নেই। আমরা ছোটবেলা থেকেই নানা ধরনের কথা শুনে এসেছি। আমি এখানে নারীবাদী হওয়ার চেষ্টা করছি না। কিন্তু আমাদের বাড়িতে আমরা দুজনই সমান। আর এই মানসিকতা একজন পুরুষের ভেতর থেকে স্বাভাবিকভাবে আসতে হয়। আর সুরিয়ার মধ্যে সেই গুণ রয়েছে।”
সুরিয়া-জ্যোতিকা সবকিছু একসঙ্গে ভাগ করে নেন। জ্যোতিকা বলেন, “আমি যদি কখনো রান্না করি, সেও (সুরিয়া) রান্নাঘরে এসে আমার সঙ্গে রান্না করে। চলচ্চিত্র নির্মাণ, সন্তানদের লালন-পালন, এমনকি ছুটিতে যাওয়া—সবকিছুই আমরা একসঙ্গে করি। আমার মনে হয়, আমরা দুজনই একে অপরের বিকাশ দেখতে ভালোবাসি।”
‘নেরুক্কু নের’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয় সুরিয়ার। শুরুর দিকে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। ১৯৯৯ সালে ‘পুভিল্লাম কেটুপ্পার’ সিনেমার শুটিংয়ে জ্যোতিকার সঙ্গে সুরিয়ার প্রথম দেখা। সেই সময় দুজনই তেমন বড় তারকা হননি। অন্যদিকে, মুম্বাইয়ে বড় হওয়ায় তামিল ভাষাও খুব একটা জানতেন না জ্যোতিকা। সিনেমায় অভিনয়ের জন্য পরবর্তীতে তামিল ভাষা শেখেন। কাজের প্রতি এই অভিনেত্রীর আত্মত্যাগ, সংলাপ বলার ধরন, সহকর্মীদের প্রতি বিনয় সুরিয়াকে খুব আকর্ষণ করে।
ধীরে ধীরে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে শুরু করেন জ্যোতিকা এবং বড় তারকা হয়ে ওঠেন। ২০০১ সালের ঘটনা। জ্যোতিকার শুটিং সেটের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন সুরিয়া। তাকে দেখে সহকারীর মাধ্যমে এই অভিনেতাকে ডাকেন। সেখানে তাদের অনেক কথা হয় এবং ধীরে ধীরে ভালো বন্ধু হয়ে ওঠেন। এরপর সুরিয়ার বিভিন্ন পার্টিতে নিয়মিত মুখ হয়ে ওঠেন জ্যোতিকা।
২০০১ সালে সুরিয়া অভিনীত ‘নন্দ’ সিনেমাটি মুক্তি পায়। এই সিনেমার প্রিমিয়ারে হাজির হয়েছিলেন জ্যোতিকা। তার অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে তার পরবর্তী সিনেমা ‘কাখা কাখা’-তে (পরবর্তীতে ‘ফোর্স’ নামে হিন্দি রিমেক হয়) নেওয়ার জন্য পরিচালক গৌতম মেননকে অনুরোধ করেন এই অভিনেত্রী। সিনেমাটির সেটেই পরস্পরের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। সিনেমাটির শুটিং শেষে বাগদানের পরিকল্পনা করেন তারা। অনেকটা গোপনেই বাগদান সারেন। ২০০৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা।
বিয়ের পর মুম্বাই থেকে চেন্নাই গিয়ে বসবাস শুরু করেন জ্যোতিকা। ২০০৭ সালে তাদের প্রথম সন্তাদের জন্ম হয়। তারা মেয়ের নাম রাখেন দিয়া। এরপর ২০১০ সালে তাদের ছেলে দেবের জন্ম হয়। জ্যোতিকা জানান, প্রায়ই সুরিয়াকে গান গেয়ে শোনান তিনি। অন্যদিকে, এই অভিনেতাও তাকে তামিল গান শোনান। সিনেমার পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান সুরিয়া। বিয়ের দুই দশক পরও সুখেই কাটছে তাদের সংসার।
*টাইমস অব ইন্ডিয়া, পিঙ্কভিলা অবলম্বনে
