

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি পিএইচডির শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা।
আগামী ৯ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের বসন্তকালীন সমাবর্তনে এই ডিগ্রি প্রদান করা হবে। মঙ্গলবার (৫ মে ২০২৬) আনুষ্ঠানিকভাবে মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে চিঠি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ।
কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধিকে উপস্থিত থেকে নিহত দুই পরিবারের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির প্রথম জানাজার আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার (৬ মে ২০২৬) দুপুর ২টায় টাম্পায় জানাজা শেষে ৭ মে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পাঠানো হবে। দুবাই হয়ে মরদেহ ঢাকায় পৌঁছাবে ৯ মে সকাল ৮.৪০ মিনিটে। এর আগে গত ৪ মে লিমনের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক জামিল আহমেদ লিমন (২৭) যুক্তরাষ্ট্রে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। গত ১৬ই এপ্রিল তিনি নিখোঁজ হন।
লিমনের সঙ্গে নিখোঁজ হন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭)। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন।
তাদের ফোন বন্ধ পেয়ে এবং কোনোভাবে যোগাযোগ করতে না পেরে পরিবারের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জামিলের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে তাঁর পারিবারিক বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আবুঘরবেহকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গত ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকায় আবর্জনা ফেলার কালো রঙের কয়েকটি ব্যাগের মধ্যে জামিলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায় বলে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় থেকে জানানো হয়।
এ ঘটনায় আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মাত্রার (ফার্স্ট ডিগ্রি) হত্যার দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কাকতালীয়ভাবে মাছ ধরতে গিয়ে একজন শনাক্ত করেন বৃষ্টির খণ্ডিত মরদেহ। উত্তর সেন্ট পিটার্সবার্গের উপকূলে মাছ ধরছিলেন এক ব্যক্তি। তার ফিশিং লাইন একটি কালো ব্যাগে আটকে গেলে সেটি ছাড়াতে তিনি ম্যানগ্রোভ বনের ভেতরে যান। সেখানে গিয়ে তিনি তীব্র দুর্গন্ধ অনুভব করেন।
মরদেহটি তীব্র পচনশীল অবস্থায় থাকায় ডিএনএ ও দাঁতের রেকর্ডের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। বৃষ্টির পরনের পোশাকও তার নিখোঁজ হওয়ার সময়কার পোশাকের সঙ্গে মিলে যায়।

