

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি: জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ পেয়ে কালীগঞ্জের এটিএম কামরুল ইসলাম গাজীপুর জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নির্বাচিত হয়েছেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের স্বাক্ষরিত জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহের মূল্যায়ন তালিকায় শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম কামরুল ইসলাম এর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রশাসনিক দক্ষতা, উন্নয়ন কার্যক্রম, জনসেবা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক উদ্যোগসহ সার্বিক কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম কামরুল ইসলাম এ সম্মাননায় ভূষিত হন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারের মহেশখালীর বাসিন্দা এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এটিএম কামরুল ইসলাম ৩৬তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। তিনি ১৯৭তম মেধাক্রম অনুযায়ী ২০১৮ সালের ২৯ নভেম্বর সহকারী কমিশনার হিসেবে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পান। একই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কক্সবাজারে শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয়ে সহকারী সচিব হিসেবে কর্মরত থাকাবস্থায় পদোন্নতি পেয়ে ২০২২ সালের ২২ জুন থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি সিনিয়র সহকারী কমিশনার পদে পদোন্নতি পেয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগদান করে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সংস্থাপন শাখায় দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগে যোগ দিয়ে উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব¡ পালনরত অবস্থায় ২০২৫ সালের ৯ জুলাই তাকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে পদায়নের জন্য ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয় এবং ২৮ আগষ্ট তিনি কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
কালীগঞ্জে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসেবামূলক ও মানবিক উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রেখে স্থানীয় জনগণের মাঝে আস্থা অর্জন করেন। অবৈধ মাটি কাটা রোধে, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে তিনি ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন। এছাড়াও সরকারি জমি উদ্ধার, এলাকা পরিদর্শন, অসহায় ও দুস্থ মানুষের সহায়তা, শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেওয়া, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প সরেজমিন তদারকি, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা, মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, মহান বিজয় দিবসে সাইকেল র্যালি, স্বাধীনতা দিবসে ম্যারাথন এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নির্বাচিত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি শ্রেষ্ঠ হওয়ার জন্য কাজ করিনি। সরকারের অর্পিত দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমার কাজকে মূল্যায়ন করেছেন, এ জন্য আমি কৃতজ্ঞ। দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে সফলতা আসবেই, ইনশাআল্লাহ।’
