

শিব্বির আহমদ রানা, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আয়াতুল ইসলাম (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ৎ
শিশুটির স্বজনদের অভিযোগ, সময়মতো যথাযথ চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ না দেওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) বিকেল প্রায় ৩টার দিকে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আয়াতুল ইসলাম বাঁশখালী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছৈয়দ আহাদের ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত শনিবার রাতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে ওইদিন রাত ৮টার দিকে শিশুটিকে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হচ্ছিল বলেও তারা দাবি করেন। স্বজনদের অভিযোগ, রবিবার দুপুর পর্যন্ত শিশুটি অনেকটাই সুস্থ ছিল। পরে কর্তব্যরত এক নার্স ইনজেকশন প্রয়োগের পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সে মারা যায়।
শিশুটির স্বজনরা আরও অভিযোগ করেন, কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমা আক্তার বলেন, 'ঘটনার সময় আমি জেলা পর্যায়ের একটি সভায় ছিলাম। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। রোগীকে ২০ জুন রাতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরবর্তীতে তিনজন চিকিৎসক তাকে পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা প্রদান করেন। রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র আমি দেখেছি। প্রাথমিকভাবে কোনো ভুল চিকিৎসার বিষয়টি আমার কাছে প্রতীয়মান হয়নি। তারপরও অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'আমাদের চিকিৎসকরা আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীদের সেবা দিয়ে থাকেন। সময়মতো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না–এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, তাই তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।'
বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, 'উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।'
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, 'শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
এ বিষয়ে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'ঘটনার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আমাকে অবহিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সভায় ব্যস্ত থাকায় তখন ফোন রিসিভ করতে পারিনি। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।'
এদিকে, শিশুটির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, এ সময় শিশুটির কয়েকজন স্বজন জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
