

ঢাবি প্রতিনিধি: সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০তম উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। ফলে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের এই শীর্ষ পদটি শূন্য রয়েছে। পদটিকে কে অলঙ্কিত করবেন তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। সম্ভাব্য উপাচার্য হিসেবে গুঞ্জন রয়েছে বেশকয়েক জন জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের নাম। এঁদের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তাঁর ভাবনার বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষাঙ্গনটিকে গবেষণা ও নৈতিকতার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন তিনি। এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম মনে করেন, একটি আধুনিক ও দায়িত্বশীল বিশ্ববিদ্যালয় গঠনে জ্ঞানচর্চা, গবেষণা এবং মানবিক মূল্যবোধ এই তিনটির সমন্বয় অপরিহার্য।
তাঁর দৃষ্টিতে, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু পাঠদাননির্ভর প্রতিষ্ঠান না রেখে গবেষণাভিত্তিক জ্ঞানকেন্দ্রে রূপান্তর করতে হবে। তিনি প্রতিটি বিভাগে গবেষণার পরিবেশ জোরদার, আধুনিক ল্যাব ও তথ্যভিত্তিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গড়ে তোলাও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম দায়িত্ব। সেই লক্ষ্যে ক্যাম্পাসে একটি সহনশীল, বৈষম্যহীন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার চর্চা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের উন্নয়ন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করেন সম্ভাব্য ঢাবি উপাচার্য। তাঁর মতে, অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং সবার মতামতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমেই একটি কার্যকর ও ইতিবাচক একাডেমিক পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘সম্মিলিত উদ্যোগ, গবেষণামুখী দৃষ্টিভঙ্গি এবং নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু জাতীয় নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও একটি মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞানকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যাবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় হবে মুক্তচিন্তা ও ভিন্নমতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের স্থান। একটি পরমত সহনশীল ও সংঘাতমুক্ত একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন নিরপেক্ষ ও নীতিনিষ্ঠ ভূমিকা পালন করবে।’
এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘ঐতিহ্য ও গৌরবের ধারক এই প্রতিষ্ঠানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রয়োজন সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, দৃঢ় নেতৃত্ব এবং সম্মিলিত অঙ্গীকার।’
