

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আওয়ামীপন্থী ছয় ডিনের পদত্যাগের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও প্রক্টর দপ্তরে তালা ঝুলিয়েছে শিক্ষার্থীদের একাংশ। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ তালাবদ্ধের পর সভায় বসেন তারা।
তবে এতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় রাতে আরেকটি সভা হবে বলে জানিয়েছেন জনসংযোগ দপ্তর প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার।তিনি জানান, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের সাথে বসেছি, তারা তাদের কথা জানিয়েছে। কিন্তু সেখানে সকলের সম্মতিতে এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিষয়ে ৭ টার দিকে আরেকটা সভা ডাকা হয়েছে।’
পরে দুপুর আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রার দপ্তরে এসে তাদের দাবি জানান। এসময় শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ ফয়সাল দাবি আদায়ের আগে রেজিস্ট্রার ভবন ত্যাগ না করার ঘোষণা দেন। পরে শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রার দপ্তরসহ উপ-উপাচার্য ও প্রক্টর দপ্তরেও তালা ঝুলিয়ে দেন।
এক পর্যায়ে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের সাথে শিক্ষার্থীরা বাকবিতন্ডায় জড়ায়। এতে উপ-উপাচার্য তালা খুলার কথা বললে শিক্ষার্থীরা অস্বীকৃতি জানায়। পরে উপ-উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, ‘এটা কি নতুন বাংলাদেশ !আমরা কি আন্দোলন করিনি, শুধু তোমরাই করেছো? কি পেয়েছো?’
শিক্ষার্থীরা বলছে, বিপ্লবের এক বছর পেরিয়ে গেলেও আওয়ামী ফ্যাসিসস্টের দোসররা আজও ক্যাম্পাসে নিরাপদ, অথচ আমাদের বিপ্লবের নেতৃত্ব দেয়া মানুষরা রাস্তায় গুলি খেয়ে জীবন দিচ্ছে। রক্তের উপর দাঁড়িয়ে রাবি প্রশাসন আসলেও বিপ্লবের স্পিরিট তারা ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
সভায় রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আপনারা আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিন। আমরা প্রতিদিন তালা দিতে আসতে পারবো না। আপনরা যেটাকে মব বলেন। অবশ্যই এটা আমাদের কাছে আন্দোলন। ডীনদের তো অপসারণ করতেই হবে। এই ১৭ তারিখের পর দায়িত্বে বহাল থাকার সাহস তারা প্রশাসন থেকেই পেয়েছে।’
উপ-উপাচার্য ফরুদ উদ্দিন (শিক্ষা) বলেন, ‘তাদেরকে এখনও দায়িত্বে রাখা হয়েছে কারণ সমাবর্তনের কারণে আমরা নির্বাচন করতে পারি নাই।আবার একই সাথে ভর্তি পরীক্ষাও শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে বিষয়টা এতদূর না নিয়ে আসলেও পারতে। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য আগেই ডেকেছি সুতরাং সিদ্ধান্ত হয়েই আছে তাদের বিষয়ে।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘তোমরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুতরাং দেশের প্রথম শ্রেণীর নাগরিক। তোমাদের শব্দ চয়ন ও কার্যক্রমও তেমন হওয়া উচিত ।’
উপ-উপাচার্য মাঈন উদ্দিন (প্রশাসন) বলেন, 'বিপ্লবীদের ঐক্য জাতির জন্য সুফল বয়ে নিয়ে আসবে একইভাবে বিপ্লবীদের বিভাজন জাতিকে অনিরাপদ করে তুলবে। আমাদের ক্যাম্পাসের বিপ্লবীরাও নিজেদের মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্বেও আমরা দেখেছি নির্বাচন না হওয়ার জন্য দায়িত্ব প্রাপ্তরা সময় শেষের পরেও দায়িত্বে পূর্ণ বহাল ছিল। এটা অনেক আগে থেকেই ঘটে আসছে। আমাদেরও ব্যর্থতা আছে।
উল্লেখ্য, এর আগে শিক্ষার্থীদের এই দাবিতে আজ সকাল ১০ টার দিকে ডিনস কমপ্লেক্সে যান। পরে ডিনস কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ভবনে অবস্থিত ঐ ডিনদের চেম্বারে তালা দেন তাঁরা। তবে এদিন ডিনদের কেউ বিভাগের ক্লাসে উপস্থিত ছিলেন না।
