ঢাকা
logo
প্রকাশিত : August 18, 2026

সুজন সেনের শাস্তির রায় প্রত্যাখ্যান: স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি শিক্ষার্থীদের

আবু হেনা সাকিল, রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুজন সেনের বিরুদ্ধে দেওয়া শাস্তির সিদ্ধান্তকে ‘দায়সারা, প্রভাবিত ও প্রহসনমূলক’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ক্ষতি পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, দাবি পূরণ না হলে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। প্রয়োজনে আমরণ অনশনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ড. সুজন সেনের বিরুদ্ধে অযোগ্যতা, দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বৈরাচারিতার অভিযোগের তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্ত শেষে তাঁকে পাঁচ বছরের জন্য একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি এবং সহযোগী অধ্যাপক পদ থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে অবনমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সিদ্ধান্তকে অপর্যাপ্ত ও প্রহসনমূলক বলে দাবি করছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রায় ২০০ পৃষ্ঠার লিখিত অভিযোগ ও বিভিন্ন প্রমাণ জমা দেওয়া হলেও তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।

শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, একজন শিক্ষক অযোগ্য ও দুর্নীতির অভিযোগে শাস্তিপ্রাপ্ত হওয়ার পর পাঁচ বছর পর কীভাবে আবার স্বাভাবিকভাবে দায়িত্বে ফিরতে পারবেন। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে পদে থাকার সময়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে নেওয়া বেতন-ভাতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির দায় কীভাবে নির্ধারণ ও পুনরুদ্ধার করা হবে, সে বিষয়েও তাঁরা জবাব চান।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, দুর্নীতির কারণে রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তা পুনরুদ্ধার করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে থাকলে উপযুক্ত শাস্তি হিসেবে ড. সুজন সেনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবি জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে চারুকলা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আসাদ সাদিক রাফি বলেন, ‘অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও এই বিচারকে দায়সারা ও প্রভাবিত করা হয়েছে, যা আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। একজন অযোগ্য প্রমাণিত শিক্ষক পাঁচ বছর পর কীভাবে আবার যোগ্য হয়ে উঠবেন এবং দীর্ঘ ১০ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে নেওয়া বেতন-ভাতা ও আর্থিক ক্ষতি কীভাবে পুনরুদ্ধার করা হবে—এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। আমরা এই রায় পুনর্বিবেচনা ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।’

চারুকলা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আসিয়া খাতুন বলেন, ‘দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছে। দীর্ঘ সময় পর এমন একটি সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের কাছে প্রহসন ছাড়া কিছুই নয়। আমরা আজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। আশা করছি, প্রশাসন শিক্ষার্থীদের আস্থার জায়গা থেকে একটি সন্তোষজনক সিদ্ধান্তে আসবে।’

প্রিন্টমেকিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাখাওয়াত বলেন, ‘জুনিয়র ব্যাচ হিসেবে আমাদের প্রধান উদ্বেগ হলো—যে শিক্ষক আগে এমন অপরাধ করেছেন, তিনি ফিরে এসে আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করবেন না, প্রশাসন সেই নিশ্চয়তা দিতে পারেনি।’

ছাপচিত্র ডিসিপ্লিনের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মতিউর রহমান সানজিদ বলেন, ‘তিনি যখন হল প্রভোস্ট ছিলেন, তখন আমাকে হলে উঠতে দেননি এবং ছাত্রলীগের সঙ্গে নেগোশিয়েশনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এমন একজন ব্যক্তির পুনরায় বিভাগে ফিরে আসাটা অত্যন্ত শোচনীয়।’

তবে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম বলেন, ‘বিষয়টি পুরোপুরি সিন্ডিকেটের এখতিয়ারভুক্ত। সিন্ডিকেটের কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা পুনর্বিবেচনা করতে হলে তা পুনরায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই করতে হবে। এর বাইরে অন্যভাবে করার সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীদের দেওয়া স্মারকলিপিটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তা উপাচার্যের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

উল্লেখ্য, এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ড. সুজন সেনের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram