

পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১৭ কর্মকর্তাকে একসঙ্গে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আরো পাঁচ কর্মকর্তার বেতন সর্বনিম্ন স্তর বা গ্রেডে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।বিএসইসি প্রতিষ্ঠার পর একসঙ্গে এত কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ঘটনা এটিই প্রথম।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আজ বুধবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৫ মার্চ তৎকালীন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও কয়েকজন কমিশনারকে ৪ ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় মোট ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তে অভিযুক্ত ও অভিযোগকারীদের বক্তব্য নেওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। তাদের মধ্যে একজন এরই মধ্যে অন্য একটি অভিযোগে চাকরিচ্যুত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
২০২৫ সালের ৫ মার্চ বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তৎকালীন চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের ৪ ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন।
বিএসইসির তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রতিবাদে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ওই কর্মসূচি পালন করেন। একই সঙ্গে তারা কমিশনের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে কর্মবিরতিও পালন করেন। এতে কয়েক দিন বিএসইসিতে অচলাবস্থা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়।
ওই ঘটনায় করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, কমিশনের সভা চলাকালে একদল কর্মকর্তা-কর্মচারী জোর করে সভাকক্ষে প্রবেশ করে চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের অবরুদ্ধ করেন।পরে কমিশনের মূল ফটকে তালা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সিসিটিভি ও ওয়াই-ফাই সংযোগ বন্ধ, লিফট অচল এবং বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়।
সরকারি তদন্ত ও বিভাগীয় প্রক্রিয়া শেষে ওই ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এবার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
