ঢাকা
logo
প্রকাশিত : August 19, 2026

ঢাকার ৮টি জোনে চলবে অটোরিক্সা, নতুন উদ্যোগ সরকারের

রাজধানীর সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত নতুন নীতিমালার আওতায় পুরো ঢাকা শহরকে আটটি নির্দিষ্ট জোনে ভাগ করে এসব রিকশা পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জোনভেদে রিকশায় আলাদা রং এবং প্রতিটি যানে কিউআর কোডসংবলিত ডিজিটাল নিবন্ধন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নতুন ব্যবস্থায় এক জোনে অনুমোদিত রিকশা অন্য জোনে প্রবেশ করতে পারবে না। এতে নির্ধারিত এলাকার বাইরে রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অবৈধ যান সহজে শনাক্ত করা যাবে। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর চাপ কমাতে ব্যাটারি চার্জের জন্য সৌরবিদ্যুৎনির্ভর চার্জিং স্টেশন চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি পর্যন্ত ব্যাটারিচালিত রিকশার বেপরোয়া চলাচল নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। অনেক চালকের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও বৈধ লাইসেন্স না থাকায় এসব যান দুর্ঘটনা ও যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অবৈধ গ্যারেজে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও দুই সিটি করপোরেশন জোনভিত্তিক ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা একেবারে বন্ধ না করে নিয়মের মধ্যে আনা হবে। আটটি জোনে ভাগ করা হলে কোনো এলাকায় নির্ধারিত ধারণক্ষমতার বেশি রিকশা চলাচল করতে পারবে না। একই সঙ্গে বাসাবাড়ি বা বাণিজ্যিক সংযোগের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে রিকশা চার্জ দেওয়াও কঠোরভাবে বন্ধ করা হবে। এর পরিবর্তে সোলার চার্জিং স্টেশনের মাধ্যমে রিকশা চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা চালকদের জীবিকা ধ্বংস করতে চাই না। তবে সড়কের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। প্রতিটি জোনের পৃথক রং ও কিউআর নিবন্ধনের ফলে অবৈধ ও বহিরাগত রিকশা সহজে শনাক্ত করা যাবে।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেন, দক্ষিণ সিটিতে এলাকাভিত্তিক জরিপ ও জোন নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে। দুই সিটি করপোরেশন যৌথভাবে পুরো ঢাকা শহরকে আটটি জোনে ভাগ করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি জোনের রিকশায় নির্দিষ্ট রং থাকবে। কোনো এলাকার রিকশা অন্য জোনে প্রবেশ করলে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও ট্রাফিক পুলিশের সহায়তায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আবদুস সালাম আরও বলেন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুরোপুরি ডিজিটাল করা হবে। প্রতিটি রিকশায় স্থায়ী কিউআর কোড থাকবে। সেটি স্ক্যান করলেই চালক ও মালিকের তথ্য পাওয়া যাবে। এতে রিকশা চুরি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমানো সম্ভব হবে।

এ ছাড়া সোলার চার্জিং হাব স্থাপনে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

নগর পরিকল্পনাবিদরা সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এর বাস্তবায়নে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করছেন। তাদের মতে, ব্যাটারিচালিত রিকশা মূল সড়কের পরিবর্তে ভেতরের সড়কে সীমাবদ্ধ রাখা এবং জোনের সীমানায় নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত সোলার চার্জিং স্টেশন দ্রুত স্থাপন করতে হবে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ছোট যানবাহন চলাচলের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে এসব যান নিবন্ধন এবং নামমাত্র ফিতে চালকদের লাইসেন্স দেওয়া হলে সরকার বছরে বিপুল রাজস্ব আয় করতে পারে। একই সঙ্গে সড়কে শৃঙ্খলাও ফিরবে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিনের বরাতে কালের কণ্ঠ

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram