

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী ভিন্ন এক বাস্তবতায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে রেকর্ড ভোটে জয়লাভ করতে যাচ্ছে ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী প্যানেল। ডাকসুর ২৮টি পদের বেশির ভাগ পদেই বিজয়ী হতে যাচ্ছে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল। ডাকসুর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভূমিধস বিজয় পেয়েছে দলটি।
ডাকসু ২০২৫ নির্বাচনে সহসভাপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট প্যানেলের আবু সাদিক কায়েম। রাত আড়াইটা পর্যন্ত প্রকাশিত কয়েকটি হলের ফলে তাঁর প্যানেলের সবাই বিপুল ভোটে এগিয়ে।
সুফিয়া কামাল হলে সাদিক কায়েম ভোট পেয়েছেন এক হাজার ২৭০টি, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল মনোনীত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান এই হলে পেয়েছেন ৪২৩টি ভোট। ফজলুল হক মুসলিম হলে সাদিক কায়েম পেয়েছেন ৮৪১ ভোট, আবিদ পেয়েছেন ১৮১ ভোট।
শহীদুল্লাহ হলে সাদিক পেয়েছেন ৯৬৬ ভোট, আবিদ পেয়েছেন ১৯৯টি, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে সাদিক পেয়েছেন ৮৪১টি, আবিদ পেয়েছেন ১৮১টি।
ডাকসুতে নতুন ইতিহাসএদিকে জিএস পদে বিজয়ী এস এম ফরহাদ সুফিয়া কামাল হলে পেয়েছেন ৯৬৪ ভোট, নিকতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিরোধ পর্ষদের মেঘমল্লার বসু পেয়েছেন ৫০৭ ভোট। ফজলুল হক মুসলিম হলে ফরহাদ পেয়েছেন ৫৮৯ ভোট, আবু বাকের মজুমদার পেয়েছেন ৩৪১ ভোট। অমর একুশে হলে ফরহাদ পেয়েছেন ৪৬৬ ভোট, বাকের ১৮৭ ভোট পেয়েছেন।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টায় শুরু হয়ে টানা ভোটগ্রহণের মাধ্যমে শেষ হয় বিকেল ৪টায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আটটি কেন্দ্রের ৮১০টি বুথে বিরতিহীনভাবে ভোট নেওয়া হয়। ডাকসুর ২৮টি পদের জন্য ৪৭১ জন এবং ১৮টি হল সংসদের ২৩৪টি পদের জন্য এক হাজার ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। একজন ভোটারকে মোট ৪১টি ভোট দিতে হয়েছে।
তবে ভোট শেষে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ উঠেছে।
প্রার্থীরা নির্বাচন ঘিরে অস্বচ্ছতা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জানিয়েছেন। একে অন্যের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও করেছেন। এমনকি নির্বাচনের ভোট গণনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কারচুপি করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রদলসহ দুটি প্যানেলের প্রার্থীরা।
গতকাল সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে টিএসসি কেন্দ্রের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রার্থীদের সামনে কেন্দ্রটির ভোট গণনা করার দাবি জানান প্রার্থীরা। তবে তাতে সাড়া দেয়নি প্রশাসন। এ সময় ভোট কারচুপির অভিযোগ তোলেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান। তাঁর সঙ্গে যোগ দেন গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের নেতা ও স্বতন্ত্র এজিএস পদপ্রার্থী হাসিবুল ইসলাম।
ছাত্রদলের ভিপি পদপ্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা শুনেছি, শিবিরের প্রার্থীরা বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট গণনা দেখছেন। তবে আমরা কেন পারব না? তাহলে আমরা কিভাবে প্রশাসনের ওপর বিশ্বাস করব? বিভিন্ন জায়গায় কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসন কী করতে চাচ্ছে, সেটি আমরা বুঝতে পারছি না।’ ওই সময় টিএসসি ভোটকেন্দ্রের সামনে স্থাপন করা এলইডি স্ক্রিন বন্ধ অবস্থায় দেখা গেছে। তবে কয়েকজনকে সেটি চালুর চেষ্টা করতে দেখা যায়। পরে রাত পৌনে ৮টার দিকে স্ক্রিনটি চালু করা হয়।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ‘নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং অভিযোগ পেলে নির্বাচন কমিশন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাবমুক্ত থেকে দায়িত্ব পালন করেছে। বিকেল সাড়ে ৪টার আগে কোনো ধরনের অস্বাভাবিক জমায়েতের তথ্য তাঁদের কাছে ছিল না। উপাচার্য বলেন, ‘আমি কোনো দলের নই এবং কখনো রাজনীতি করিনি।’
ভোট পড়েছে ৭৮.৩৩ শতাংশ
সারা দিনের ভোটগ্রহণে ১৮টি হলের ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে ভোট পড়েছে ৭৮.৩৩ শতাংশ। নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে আটটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে সূর্য সেন হলে, যেখানে ভোটদান হার ৮৮ শতাংশ। শেখ মুজিবুর রহমান হলে ৮৭,শতাংশ, কবি জসীমউদ্দীন হলে ৮৬ শতাংশ, বিজয় একাত্তর হলে ৮৫.০২ শতাংশ, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ৮৪.৫৬ শতাংশ, অমর একুশে হলে ৮৩.৩০ শতাংশ, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে ৮৩.৩৭ শতাংশ, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে ৮৩ শতাংশ, স্যার এ এফ রহমান হলে ৮২.৫০ শতাংশ, ফজলুল হক মুসলিম হলে ৮১.৪৩ শতাংশ, জগন্নাথ হলে ৮২.৪৪ শতাংশ, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে ৮০.২৪ শতাংশ, রোকেয়া হলে ৬৫.৫০ শতাংশ, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে ৬৮.৩৯ শতাংশ, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে ৬৭.০৮ শতাংশ, কবি সুফিয়া কামাল হলে ৬৪ শতাংশ এবং শামসুন নাহার হলে ৬৩.৬৭ শতাংশ ভোট পড়েছে।
গতকাল দুপুরের আগে থেকেই পাল্টাপাল্টি অভিযোগে কেন্দ্রগুলোতে উত্তেজনা তৈরি হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি পদপ্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান। দুপুরে টিএসসি কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, শিবির সমর্থিত ভিপি পদপ্রার্থী সাদিক কায়েম এবং জিএস পদপ্রার্থী এস এম ফরহাদের ব্যালট পেপারে আগেই ক্রস চিহ্ন দেওয়া ছিল। বিকেলে মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, ডাকসু নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ। বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হলেও পোলিং এজেন্ট নিয়োগে প্রার্থীদের বাধা দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জিএস পদপ্রার্থী তানভীর বারী হামিম এবং এজিএস পদপ্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদ উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ডাকসু নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিনের নেতৃত্বে সংগঠনের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে অভিযোগ জানায়। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে তিনটি প্রধান অভিযোগ তোলা হয়। সেগুলো হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি প্রবেশপথে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি, প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে জামায়াতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রভাব, পুরো নির্বাচনে পরিকল্পিত কারচুপি।
ফলাফল যা-ই হোক, মেনে নেওয়ার আহবান সাদিক কায়েমের
অন্যদিকে সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবির সমর্থিত ভিপি পদপ্রার্থী সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীরা ভোট দিয়েছেন। ফলাফল যা-ই হোক, তা মেনে নিতে সব প্রার্থী ও ছাত্রসংগঠনের নেতাদের প্রতি আহবান জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনে হার-জিত নয়, আমরা সবাই জুলাইয়ে ঐক্যবদ্ধ ছিলাম। শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেটকে সম্মান করতে হবে, জোরপূর্বক চাপ দিলে বিপরীত ফল হতে পারে।’ সাদিক কায়েম আশা প্রকাশ করেছেন, যারা ষড়যন্ত্র করছে তারা চক্রান্ত থেকে সরে আসবেন। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন শিবিরের সভাপতি এস এম ফরহাদ, সেক্রেটারি মুহা. মহিউদ্দীন খান প্রমুখ।
ডাকসু নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী আব্দুল কাদের। গতকাল দুপুরে টিএসসিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এত ষড়যন্ত্রের পরও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন, কিন্তু তাঁদের সঙ্গে তামাশা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। আব্দুল কাদের অভিযোগ করেন, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রার্থীরা সরাসরি ভোটারদের প্রভাবিত করেছেন। ইসি আগে আচরণবিধি কার্যকর করার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তারা কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে, সেটা শিক্ষার্থীরা এখন বুঝে গেছে।
কারচুপির অভিযোগে ডাকসুর নির্বাচন বর্জন করলেন স্বতন্ত্র ভিপি পদপ্রার্থী তাহমিনা
কারচুপির অভিযোগ তুলে দুপুরের পর ডাকসু নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন স্বতন্ত্র ভিপি (সহসভাপতি) পদপ্রার্থী তাহমিনা আক্তার। টিএসসিতে সাংবাদিকদের তিনি জানান, ভোটকেন্দ্র দখল, জালিয়াতি ও পূর্বপরিকল্পিত কারচুপির মাধ্যমে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীকে জিতিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘আগে থেকেই পূরণ করা ব্যালট ব্যবহারসহ নানা কৌশলে প্রহসনের ভোট হয়েছে। আমি এই ভুয়া নির্বাচন বর্জন ও বয়কট করছি।’ তিনি শিবিরপন্থী আচরণের অভিযোগ তুলে ভিসি ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পদত্যাগ এবং ঘটনাগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল ও শিবির আচরণবিধির তোয়াক্কা করছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন স্বতন্ত্র ভিপি পদপ্রার্থী জামালুদ্দীন মুহাম্মদ খালিদ। গতকাল নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনে প্রগতিপক্ষের জয় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিরোধ পর্ষদ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মেঘমল্লার বসু। গতকাল দুপুর পৌনে ১২টায় শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রে ভোটকেন্দ্রের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ফলাফল নিয়ে আশাবাদী। ব্যালটে যেসব প্রগতিপক্ষের শক্তি রয়েছে, সেগুলোই জিতবে।’
ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র ভিপি পদপ্রার্থী শামীম হোসেন অভিযোগ করেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং কিছু গণমাধ্যমে ট্যাগিং ও প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে তাঁর ভোট কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ভোটের পর সকাল সোয়া ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা সচেতন এবং ভুল করবে না। শামীম হোসেন আরো জানান, এই প্রোপাগান্ডা প্রতিপক্ষের জনপ্রিয়তা দেখে ছড়ানো হচ্ছে, তবে শিক্ষার্থীরা ভোটের মাধ্যমে জবাব দেবেন।
ভোট গণনায় কারচুপি হতে পারে, শঙ্কা আবু বাকেরের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনের ভোট গণনায় কারচুপি হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংসদ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আবু বাকের মজুমদার। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কার্জন হলের সামনে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, প্রতি হলে ৩০০ ভোট অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে পরিবর্তন করা হলে মোট পাঁচ হাজার ৬০০ ভোট হয়ে যায়, যা একটি প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য যথেষ্ট। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা জানি না ভোট গণনায় এখন ভেতরে কী ঘটছে।’
ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পোলিং অফিসারকে অব্যাহতি
নির্বাচন চলাকালে কার্জন হলের দ্বিতীয় তলায় অমর একুশে হলের ভোটকেন্দ্রে একজন শিক্ষার্থীকে অনিচ্ছাকৃতভাবে দুটি ব্যালট পেপার দেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পোলিং অফিসার জিয়াউর রহমানকে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পোলিং অফিসার জিয়াউর রহমান চৌধুরী বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘এটি একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দপ্তরের উপপরিচালক ফররুখ মাহমুদ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসন বিষয়টির নিষ্পত্তি করে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বদ্ধপরিকর।
ঢাবিতে অবৈধ প্রবেশের সময় তরুণ আটক
অন্যের কার্ড ব্যবহার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে এক তরুণকে আটক করেছে প্রোক্টরিয়াল টিম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করেন। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় নীলক্ষেত পয়েন্ট দিয়ে প্রবেশের চেষ্টাকালে তাঁকে আটক করা হয়।
শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর বলেন, ‘অবৈধভাবে ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে প্রোক্টরিয়াল টিম আমাদের কাছে এক তরুণকে হস্তান্তর করেছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।’
পুলিশ সূত্র জানায়, আটক ওই তরুণ ডাকসুর নির্বাচনে এক প্রার্থীর আত্মীয় পরিচয় দিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আজ ঢাবির সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে
আজ বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
