ঢাকা
logo
প্রকাশিত : August 26, 2026

মান্দায় ইউএনও’র বিরুদ্ধে বয়ঃসন্ধিকালীন প্রশিক্ষণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

সাজ্জাদুল তুহিন, মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় মেয়ে শিক্ষার্থীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের নামে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বিশেষ বরাদ্দের প্রায় ৩ লাখ টাকা অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথীর বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, গত ১৫ জুন উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬৪ জন মেয়ে শিক্ষার্থীকে নিয়ে দুই দিনব্যাপী বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের আয়োজন দেখানো হলেও বাস্তবে মাত্র একদিন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৩৫ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

বয়ঃসন্ধিকালীন প্রশিক্ষণ দুই দিনব্যাপী হওয়ার কথা থাকলেও তা একদিনেই শেষ করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মান্দা উপজেলায় মেয়ে শিক্ষার্থীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের জন্য এডিপির বিশেষ বরাদ্দ থেকে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ২ লাখ ৯৮ হাজার ২৭৮ টাকা।

প্রকল্পের বরাদ্দ অনুযায়ী, দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিদিন ১ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ৩ হাজার টাকা এবং প্রত্যেক প্রশিক্ষকের জন্য প্রতিদিন ৩ হাজার টাকা করে দুই দিনে ৬ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার কথা ছিল।

তথ্যনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে প্রশিক্ষণের নামে এডিপির বিশেষ বরাদ্দের প্রায় পুরো টাকা পকেস্থ করেছেন ইউএনও। কাগজ কলমে ২দিন প্রশিক্ষণ দেখানো হলেও মাত্র ১দিনের দায়সারা ভাবে প্রশিক্ষণ করিয়েছেন তিনি। ৪ জন প্রশিক্ষকের জন্য ২৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেখানো হলেও তারা পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার করে মোট ১২ হাজার টাকা।

নির্ভরযোগ্য তথ্যনুযায়ী আরো জানা গেছে, প্রশিক্ষণে ৪ জন প্রশিক্ষক এবং ৬৪ জন মেয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি দেখানো হয়েছে। অথচ প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহণ করেছেন মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী।
৬৪ জন শিক্ষার্থী প্রতিদিন ১ হাজার ৫শত টাকা করে প্রশিক্ষণ ভাতা পাওয়ার কথা থাকলেও তারা কোন ভাতা পাননি। ভাতার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের শুধু খাবার ও ১টি স্যানিটারি প্যাড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভুয়া স্বাক্ষরে বয়ঃসন্ধিকালীন শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ভাতা তুলে নিয়েছেন। যা শিক্ষার্থীরা জানেন না।

এ ব্যাপারে মান্দা থানা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা ও শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষিকা পারভীন বেগম জানান, আমার প্রতিষ্ঠানের ৩ জন মেয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বয়ঃসন্ধিকালীন প্রশিক্ষণে অংশ নেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের ১টি করে প্যাড দেওয়া হয়েছিল। ভাতার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষিকা খালেনুর বেগম ফোনে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে মোবাইল বন্ধ করে দেন।

উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়নের বিদ্যা মাধুরী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ভারতী রাণী জানান, ছাত্রীদের হাতে পানির বোতল ও খাবার দেখেছি। এছাড়া যাতায়াত ভাড়া হিসেবে ১ হাজার টাকা দিয়েছিলো। শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ভাতার বিষয়ে আমার জানা নেই।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও প্রশিক্ষক ডাঃ জয়নাল আবেদিন জানান, গত জুন মাসের ১৫ তারিখে মেয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দিনব্যাপী বয়ঃসন্ধিকালীন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণ ভাতা হিসাবে আমি ৩ হাজার টাকা পেয়েছি। ২দিনের প্রশিক্ষণ হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একদিন প্রশিক্ষণ করিয়েছি ১দিনের ভাতা পেয়েছি।

প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য মোঃ শরীফ উদ্দিন বলেন, প্রশিক্ষণের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। ইউএনও অফিস থেকে আমাকে ডেকে শুধু স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণে কতজন শিক্ষার্থী অংশ নেন এই বিষয়ে আমাকে জানানো হয়নি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের হাতে টাকা দেওয়া নিরাপদ নয়, মনে করে তাদের হাতে স্যানেটারি প্যাড ও খাবার দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য কিছু টাকা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের হাতে দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram