

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ভ্রাম্যমান আদালত কর্তৃক সিলগালা করা প্রায় ৯ লক্ষ সিএফটি বালু নিলাম ছাড়াই লুট করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২৬ আগস্ট রাত থেকে উপজেলার কালিরকুড়া টি-বাঁধ এলাকা হতে ফকিরের হাট পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টের সিলগালা করা বালু পরিবহন করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বিষয়টি জানানোর পরও তা বন্ধের জন্য দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন পরবর্তী সময়ে উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কালিরকুড়া টি-বাঁধ এলাকায় থাকা দুটি পয়েন্টের সঙ্গে নতুন করে আরও ১১টি বালুর পয়েন্ট চালু করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি'র দলীয় পরিচয়ে কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এসব পয়েন্ট নিয়ন্ত্রণ করতেন। বালু পরিবহনের সুবিধার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কেটে নদীর পিচিং ব্লক তুলে অন্তত সাতটি স্থানে রাস্তা তৈরি করেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১২মে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেড মো. মাহমুদুল হাসান বিশেষ অভিযান চালিয়ে বালু ব্যবসায়ের জন্য করা রাস্তাগুলো ভেঙে দিয়ে ১৩টি পয়েন্টে প্রায় ৯ লক্ষ সিএফটি বালু জব্দ করে সিলগালা করেন। একই মাসের ৩০ তারিখে স্থায়ীভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং বাঁধ রক্ষার দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধন করেন। এ সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বাঁধ কেটে তৈরি করা বালু পরিবহনের বাকী রাস্তাগুলো ভেঙে দেয়।
সিলগালা করা বালু পাহারা ও সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য মো.আসলাম হক মেম্বার ও মুকুল মন্ডল নামে দুজনের জিম্মায় দেয়া হয়।
২৬ আগস্ট রাত থেকে উপজেলার কালিরকুড়া টি-বাঁধ এলাকা হতে ফকিরের হাট পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টের সিলগালা করা বালু পরিবহন করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বিষয়টি জানানোর পরও তা বন্ধের জন্য দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় মজনু মিয়া, রফিকুল ইসলাম ও আল মামুনসহ অনেকে বলেন, বালু পয়েন্ট বন্ধ থাকায় আমরা শান্তিতে ছিলাম। আজ থেকে আবার বালু পরিবহন শুরু হওয়ায় আমরা অশান্তিতে পড়ে গেছি।
জিম্মাদার মুকুল মন্ডল বলেন, আসলাম হক মেম্বার নিজেই বালু ব্যবসার অংশীদার। তাঁকে জিম্মাদার করার সময়ই আমরা আপত্তি জানিয়েছিলাম। আমাদের ধারণা, তাঁর পরামর্শেই বালু ব্যবসায়ীরা সিলগালা করা বালু নিয়ে গেছে। বিষয়টি আমি ইউএনওকে জানিয়েছি। কিন্তু আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তিনি আমাকে বালুবাহী গাড়ি আটকাতে বলেছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে জিম্মাদার মো.আসলাম হক মেম্বার বলেন, বালু নিয়ে যাওয়া সর্ম্পকে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার প্রতিপক্ষরা মিথ্যাচার করছে। বিষয়টি আমি ইউএনওকে জানিয়েছি। তিনি বালু নিয়ে যাওয়াদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে বলেছেন।
চিলমারী মডেল থানার ওসি নয়ন কুমার জানান, এ বিষয়ে কোন ইউএনও'র নিকট হতে কোন কাগজ কিংবা অনুমতি পাইনি। অনুমতি পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেড মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, জব্দকৃত বালু চুরির বিষয়টি আমরা জেনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অতি দ্রুত জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
