

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়ায় ১৯টি মহিষসহ প্রায় ৪৮ লাখ টাকার মালামাল ডাকাতির ঘটনায় জুয়েল রানা ওরফে সানি (৪০) নামে এক পেশাদার ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ১২টা ১০ মিনিটে ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানাধীন একটি হোটেলের ৩০৪ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-৫, রাজশাহী ও র্যাব-১০-এর যৌথ অভিযানে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানটি চালানো হয়।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুলাই রাত আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে সিলেটের জৈন্তাপুর থানার হরিপুর হাট থেকে দুটি ট্রাকে করে ৩৮টি মহিষ রাজশাহী সিটি হাটে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথে পুঠিয়া থানাধীন রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি ডাকাতদল ড্রাম ট্রাক দিয়ে মহিষবোঝাই একটি ট্রাকের গতিরোধ করে।
এ সময় ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে ট্রাকচালক ও মহিষের ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে ১৯টি মহিষসহ ট্রাকটি নিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগীদের নাটোরের বড়াইগ্রাম থানাধীন নাটোর-সিরাজগঞ্জ মহাসড়কের পাশে একটি অজ্ঞাত স্থানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
ডাকাতি হওয়া ১৯টি কালো রঙের মাঝারি আকারের মহিষের আনুমানিক মূল্য ২৩ লাখ টাকা। এছাড়া ছয় চাকার ট্রাকটির মূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা। মোবাইল ফোনসহ সব মিলিয়ে ডাকাতি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ৪৮ লাখ টাকা।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানালে তাদের সঙ্গে নিয়ে পুঠিয়া থানায় উপস্থিত হয়ে অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ ঘটনায় পুঠিয়া থানায় ১ জুলাই মামলা নম্বর-০১ এবং দণ্ডবিধির ৩৯৫/৩৯৭ ধারায় মামলা করা হয়।
মামলাটির তদন্তের ধারাবাহিকতায় র্যাব-৫-এর সদর কোম্পানি ও র্যাব-১০-এর সিপিসি-৩-এর যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানাধীন অ্যামাজন হোটেলে অভিযান চালায়। সেখান থেকেই মামলার তদন্তে পাওয়া আসামি জুয়েল রানা ওরফে সানিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার জুয়েল রানা ওই ডাকাতির ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাকে ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মামলায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
