

শেখ দীন মাহমুদ, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় অফ-সিজন তরমুজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে চাষীদের মধ্যে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। বিশেষ করে উপজেলার সোলাদানার কৃষকরা বেশ বড় পরিসরে অন্তত ১৫০ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিক উৎপাদনে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মৌসুমি তরমুজের বাইরে অফ-সিজনাল (অসময়ের) তরমুজের চাহিদা ও দাম ভাল পাওয়ায় সেখানকার কয়েকটি গ্রামের কৃষকরা নতুন স্বপ্নে জোর প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস ও স্থানীয় চাষীদের সূত্র অনুযায়ী কেবল সোলাদানায় ১৫০ বিঘা বা ৫০ একর জমিতে আবাদ হবে অফ-সিজনাল তরমুজ।স্থানীয় কৃষি অফিসের সার্বিক দিকনির্দেশনায় ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া, নায়েবখালী, ছালুবুনিয়া, খালিয়ার চক, পূর্ব দীঘা, দক্ষিণ কাইনমুখী এবং বেতবুনিয়া গ্রামগুলোতে শুরু হয়েছে এর চাষাবাদ।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে এসব গ্রামে অন্তত ১৫০ বিঘা জমিতে এই অফ-সিজন তরমুজের আধুনিক চাষাবাদ হচ্ছে। দায়িত্বরত কৃষি কর্মকর্তারা জানান, অসময়ের এই তরমুজ চাষের সফলতায় তারা নিয়মিত কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরামর্শ, আধুনিক তদারকি এবং সঠিক পরিচর্যার দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। এমেনকি আবহাওয়ার প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবেলা করে কৃষকরা যেন কাঙ্খিত ফলন পেতে পারেন, সে বিষয়ে কৃষি কর্মীরা মাঠপর্যায়ে তৎপর রয়েছে বলেও জানান তারা।
এ বিষয়ে ৫নং সোলাদানা ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, মোঃ আবদুল্লাহ জানান, উপযোগী মাটি ও পরিবেশ উপকূলের এসব এলাকায় "অফ-সিজনে তরমুজ চাষ কৃষকদের জন্য একটি লাভজনক সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সাধারণ মৌসুমের চেয়ে এ সময়ে তরমুজের বাজারে আলাদা একটা চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় কৃষকদের মধ্যে এ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তারা প্রতিটি মাঠে গিয়ে কৃষকদের সার্বিক সহায়তা ও কারিগরি পরামর্শ দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি আরোও জানান, ভাল মানের চারা পেতে এখানকার কৃষকরা বাড়িতে বা খামারের পাশে আলাদা জার্মিনেশন ট্রেতে বীজ ফেলে চারা তৈরি করেছেন। সেখানকার চারার অঙ্কুরোদ্গম ও মান অনেক ভাল।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: একরামুল হোসেন জানান, উপজেলায় মৌসুমী তরমুজের পাশাপাশি অফসিজন তরমুজ চাষে কৃষকের মধ্যে অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে আগ্রহ বেড়েছে। উপজেলার সোলাদানাতেই কেবল ১৫০ বিঘা জমিতে আবাদ করতে ইতোমধ্যে কৃষকরা প্রস্তুতি গ্রহন করেছে। উপযোগী মাটি ও আবহাওয়ার অনুকুল পরিবেশে আশানুরুপ ফলনে কৃষকরা লাভবান হবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নিত্য নতুন চাষাবাদের পাশাপাশি অসময়ে উচ্চমূল্যের ফসল অফসিজনাল তরমুজ চাষে সফলতায় ভর করে এগিয়ে যাক সুন্দরবন উপকূলীয় পাইকগাছার কৃষি। স্থানীয় কৃষকরা ফিরে পাক কৃষির সোনালী অতীত। আর্থিক সাবলম্বিতায় এ অঞ্চলের কৃষিতে বৈচিত্র ফিরে আসুক এমন প্রত্যাশা কৃষকের পাশাপাশি কৃষি সংশ্লীষ্টদের।
