ঢাকা
logo
প্রকাশিত : August 14, 2026

রোহিঙ্গার ‘আয়নাবাজি’র শিকার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোনা মিয়া মুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার: কক্সবাজারে এক লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়ে পরে আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোনা মিয়া অবশেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। প্রকৃত আসামি রোহিঙ্গা নাগরিক মোহাম্মদ রমজানের পরিচয় গোপনের কারণে ভুল আসামি হিসেবে সোনা মিয়াকে এই মামলায় সাজা ভোগ করতে হয়েছে। আদালতের চারটি শর্তে জামিন পাওয়ার পর শুক্রবার সকালে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে এক লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হন রোহিঙ্গা নাগরিক মোহাম্মদ রমজান। গ্রেপ্তারের সময় তিনি নিজের পরিচয় গোপন করে সোনা মিয়ার জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহার করেন। পরে ওই পরিচয়েই তার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অথচ প্রকৃত সোনা মিয়া ওই মামলার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত ছিলেন না।

মামলার বিচার শেষে ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর আদালত সোনা মিয়াসহ দুজনকে মৃত্যুদণ্ড, দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং একজনকে খালাস দেন। এরপর গত ২৪ জুন পলাতক আসামি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোনা মিয়াকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

কারাগারে যাওয়ার পর সোনা মিয়া নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। বিষয়টি আদালতের নজরে এলে আদালতের নির্দেশে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

তদন্তে বেরিয়ে আসে, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে রোহিঙ্গা নাগরিক মোহাম্মদ রমজান। তিনি নিজের পরিচয় গোপন করে সোনা মিয়ার জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহার করেছিলেন। পরে সোনা মিয়ার আঙুলের ছাপ ও ছবির সঙ্গে মামলার নথিতে থাকা তথ্যের মিল না পাওয়ায় ভুল আসামি শনাক্তের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

আদালতের নির্দেশে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে গত ৫ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় মোহাম্মদ রমজান। পরে তিনি নিজেকে সোনা মিয়া হিসেবে পরিচয় দিয়ে জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপনে চলে যান।

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, “২০২২ সালের ১৩ জুন সোনা মিয়া পরিচয়ে থাকা মোহাম্মদ রমজান জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপনে চলে যান। এরপর তিনি আর আদালতে হাজির হননি।”

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নান বলেন, তদন্তের শুরু থেকে অভিযোগপত্র দাখিল পর্যন্ত তদন্ত কর্মকর্তার গুরুতর গাফিলতি ছিল।

তিনি বলেন, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করতে যে জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহার করা হয়েছিল, তাতে কোনো ছবি ছিল না। সেটি যথাযথভাবে যাচাই করা পুলিশের দায়িত্ব ছিল।

আবদুল মান্নান বলেন, “অন্য একজনের জন্মনিবন্ধন সনদ যথাযথভাবে যাচাই না করে অভিযোগপত্র দেওয়ায় প্রকৃত আসামি মোহাম্মদ রমজান পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। আর নির্দোষ সোনা মিয়া কারাগারে গিয়ে মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন। এটি অত্যন্ত অমানবিক। ঘটনাটি তদন্ত করা উচিত।”

কক্সবাজার জেলা কারাগারের সুপার মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বলেন, “বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সোনা মিয়ার জামিনের কাগজপত্র পেয়েছি। যাচাই-বাছাই শেষে তাকে শুক্রবার দুপুরে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।”

কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সোনা মিয়া। এ সময় তিনি ও তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস আদালত, পুলিশ এবং কারা কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram