

তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় রাস্তায় ফেলে স্ত্রীকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী, শাশুড়ি ও দেবরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত স্ত্রী নুপুর আক্তার বাদী হয়ে স্বামী নাজমুল হোসেন (২৫), শাশুড়ি রত্না বেগম (৪৫) ও দেবর আলিফ মিয়া (২২)-এর বিরুদ্ধে গত ১৩ আগস্ট রাতে তিতাস থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কড়িকান্দি গ্রামের সাধনা বেগমের বিল্ডিংয়ের পশ্চিম পাশে গৌরীপুর-হোমনা সড়কে গৌরীপুর যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন নুপুর আক্তার। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সেখানে আসেন তার স্বামী নাজমুল হোসেন, শাশুড়ি রত্না বেগম ও দেবর আলিফ মিয়া। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা নুপুরকে দেখতে পেয়ে গাড়ি থেকে নেমে অতর্কিতভাবে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় তার গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে নুপুর আক্তার দাবি করেন, প্রায় সাত মাস আগে নাজমুল হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। নাজমুল তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স দিতে বাধ্য করেন। পরে ৬ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে রেজিস্ট্রি কাবিননামার মাধ্যমে ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী তাদের বিয়ে হয় বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।
নুপুরের দাবি, বিয়ের পর তিনি নাজমুলকে ৭ লাখ টাকা দিয়ে একটি সিএনজি অটোরিকশা, ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি আইফোন এবং ২ লাখ টাকা দিয়ে একটি আর ওয়ান ফাইভ মোটরসাইকেল কিনে দেন। বিয়ের প্রায় দেড় মাস পর নাজমুল ইউরোপে যাওয়ার কথা বলে তার কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে গৌরীপুর বাজারে থাকা তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘রাঙ্গা বউ বিউটি পার্লার’ ও স্বর্ণালংকার বিক্রি করে ১০ লাখ টাকা দেন বলে অভিযোগ করেন নুপুর। এ টাকা জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে নাজমুল তার কাছ থেকে আরও কয়েক লাখ টাকা ধার নেন। পরে নুপুর জানতে পারেন, নাজমুলের আগের স্ত্রী ও একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিষয়টি জানতে চেয়ে নিজের দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নুপুর আক্তার বলেন, এ ঘটনায় এর আগে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর তিতাস থানা পুলিশ তার দেওয়া সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও আইফোন উদ্ধার করে দেয়। তবে তার কাছ থেকে নেওয়া নগদ টাকা এখনও ফেরত দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে থানায় একাধিকবার বিচার-সালিশ হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযুক্ত নাজমুল হোসেনের বক্তব্য জানতে তার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার মা রত্না বেগম বলেন, নাজমুলের আগে বিয়ে হয়েছিল এবং তার একটি মেয়ে রয়েছে। নুপুরের সঙ্গে তার ছেলে কখন ও কীভাবে বিয়ে করেছে, তা তারা জানেন না। নুপুর তার ছেলেকে যেসব জিনিস দিয়েছিলেন, সেগুলো ফেরত দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। স্থানীয়ভাবে সালিশে নুপুরকে ৩ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলা হলেও তিনি তা মানেননি বলে দাবি করেন রত্না বেগম। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
গ্রামের সর্দার কামাল ফকির বলেন, সালিশে বসে তারা জানতে পারেন নাজমুল দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন এবং নুপুরের কাছ থেকে সিএনজি, মোটরসাইকেল ও আইফোন নিয়েছেন। বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পর এসব জিনিস উদ্ধার করে নুপুরকে ফেরত দেওয়া হয়েছে। নাজমুলের পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় নুপুরকে ৩ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে নুপুর তাতে রাজি না হওয়ায় সালিশটি অসমাপ্ত রয়েছে।
এ বিষয়ে তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিরুল হক বলেন, স্ত্রীকে মারধরের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগে নুপুর আক্তার আরও একটি অভিযোগ দিয়েছিলেন। সে অভিযোগের পর তার সিএনজি, মোটরসাইকেল ও আইফোন উদ্ধার করে দেওয়া হয়েছে। এখন তিনি মামলা করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
