

তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার তিতাসে জুসের প্রলোভন দেখিয়ে চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে আরিফ (২২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলেও ঘটনার এক সপ্তাহ পরও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের শাহপুর উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আরিফ ওই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।
মামলা ও শিশুটির পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে আরিফ ওই শিশুকে ঘর থেকে ডেকে জুস খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে নিজ ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির ওপর জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। একপর্যায়ে শিশুটির চিৎকার শুনে তার বাবা ও পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে আরিফ ও তার স্বজনরা শিশুটির বাবার ওপর হামলা চালায় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে যৌন নির্যাতনের চেষ্টার আলামত পাওয়ার কথা জানালে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই রাতেই কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চার দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর বর্তমানে শিশুটি পরিবারের সঙ্গে বাড়িতে রয়েছে।
এ ঘটনায় গত ৫ আগস্ট শিশুটির মা বাদী হয়ে আরিফকে আসামি করে তিতাস থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকে অভিযুক্ত ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে নেই বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযুক্তের মামা মন্টু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ধর্ষণের ঘটনাটি মিথ্যা। তবে আইনে যা বিচার হবে, তা আমরা মাথা পেতে নেব।”
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিরুল হক বলেন, “শিশু ধর্ষণের ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে ধর্ষণচেষ্টার আলামত পাওয়ার কথা জানান। পরে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে শিশুটি বর্তমানে বাড়িতে রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য কয়েকটি স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”
