ঢাকা
logo
প্রকাশিত : August 10, 2026

লোডশেডিংয়ে নাজেহাল কেরানীগঞ্জবাসী, বাড়ছে দুর্ভোগ

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি: তীব্র গরমের মধ্যে কেরানীগঞ্জে বিদ্যুৎ সংকট দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। দিনে-রাতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কোনো কোনো এলাকায় মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট বিদ্যুৎ থাকার পর আবার দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে। আবার কোথাও টানা দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্ষুদ্র শিল্পকারখানার কার্যক্রম।

আজ সোমবার (১০ আগস্ট) কেরানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে লোডশেডিংয়ের এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মাত্রা বেড়েছে। বিশেষ করে দিনের পাশাপাশি রাতেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক গুণ। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরে থাকা শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। অনেকেই গরম থেকে স্বস্তি পেতে ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসছেন। আবার বিদ্যুৎ ফিরে আসার অপেক্ষায় রাতের ঘুমও ঠিকমতো হচ্ছে না।

শাক্তা ইউনিয়নের বাসিন্দা রাসেল বলেন, “গরমে এমনিতেই অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। তার ওপর ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। রাতে ঠিকমতো ঘুমানো যাচ্ছে না। শিশু ও বৃদ্ধদের কষ্ট আরও বেশি।”

কালিন্দী ইউনিয়নের বাসিন্দা সুবহান অভিযোগ করে বলেন, দিনে ও রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে।

একই এলাকার বাসিন্দা মামুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিদ্যুৎ এখন সোনার হরিণ হয়ে গেছে। ১০ মিনিট থাকে, তারপর আবার দুই ঘণ্টা নেই। এই অবস্থায় থাকা সত্যিই কঠিন। গরমের মধ্যে এভাবে বারবার বিদ্যুৎ চলে গেলে মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকে না।”

শুধু আবাসিক এলাকাতেই নয়, বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে কেরানীগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্ষুদ্র শিল্পকারখানাতেও। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানপাট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎনির্ভর ছোট কারখানাগুলোতে উৎপাদন কমে গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে শ্রমিকদের বসিয়ে রাখতে হচ্ছে কিংবা কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন উদ্যোক্তারা। বিদ্যুৎ না থাকায় বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত খরচের কারণে ব্যবসায়ীদের লাভও কমে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় এভাবে লোডশেডিং চলতে থাকলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আরও ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

জিঞ্জিরা এলাকার বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন বলেন, “গরমে এমনিতেই অতিষ্ঠ, তার ওপর বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশু ও বৃদ্ধদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি। দিনের বেলায় কাজকর্ম করা যাচ্ছে না, আবার রাতেও বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়ছে।”

ঢাকা-৪ বিদ্যুৎ বিপণন বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার মোঃ গোলাম কাউসার তালুকদার জানান, তীব্র তাপদাহের কারণে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বর্তমানে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং করা হচ্ছে। তবে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করছি। ধীরে ধীরে লোডশেডিং কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram