

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা যুগ্ম ও দায়রা জজ আদালতের এজলাস ও খাস কামরা ভাঙচুরের ঘটনায় উত্তেজনার রেশ কাটেনি। ঘটনার একদিন পর আজ সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জেলা জজ আদালতের নাজির ওবাইদুর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত তাদের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ জানান, আদালতের এজলাস ও খাসকামরা ভাঙচুরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন পক্ষই অভিযোগ দেননি।
এদিকে ভাঙচুরের ঘটনার পরও আজ সকাল থেকে যথারীতি ঐ আদালতের কার্যক্রম চলেছে। সংশ্লিষ্ট বিচারকের নেতৃত্বে আদালত বসে এবং আইনজীবীরাও নিয়মিত কার্যক্রমে অংশ নেন। আদালত চত্বরে ছিল পুলিশি নিরাপত্তা। তবে দেখা যায়নি কোনো বিক্ষোভ বা মিছিল।
এদিকে আজ সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-০৩ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ নুরুল ইসলাম বুলবুল আদালতের এজলাস ভাঙচুরের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, আদালতে হামলা ও ভাঙচুরের মতো ঘটনা স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি নতুন বাংলাদেশের জন্য অশনি সংকেত। এই ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তিনি বলেন, আদালতে এসে বিচারকের এজলাস ও খাসকামরায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা নজিরবিহীন। এ ঘটনার সঠিক তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে, আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনায় বিভিন্ন মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে। একইসঙ্গে বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা সংশ্লিষ্ট বিচারকের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে ঐ বিচারককে ৭২ ঘন্টার মধ্যে প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় রয়েছেন। এ দাবিতে তারা কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
জানা গেছে, গতকাল একটি বিস্ফোরক মামলার শুনানিতে চারজনকে জামিন দেওয়া হলেও একজনের জামিন নামঞ্জুর হয়। শুনানির সময় বিদ্যুৎ ও লোডশেডিং প্রসঙ্গ নিয়ে বিচারকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আদালত প্রাঙ্গণে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
আইনের শাসনের প্রতীক আদালত প্রাঙ্গণে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
