

মোঃ হারুন অর রশিদ, ডেমরা প্রতিনিধি: ডেমরায় ঐতিহ্যবাহী সামসুল হক খাঁন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এসএসসি পরীক্ষায় নজরকাড়া সাফল্য অব্যাহত রয়েছে। চব্বিশের জুলাই বিপ্লবোত্তরকালে দেশের ক্রমাগত আর্থ-সামাজিক টানাপোড়েন ও পরীক্ষা পদ্ধতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কঠোর শৃঙ্খলা সত্ত্বেও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ৯৯.৫৯% পাশসহ ৭৯৩ জিপিএ ৫ নিয়ে গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য অব্যাহত রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। দিবা শাখা, প্রভাতি শাখা ও ইংলিশ ভার্সনের বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগের অভূতপূর্ব ফলে মুগ্ধ হয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক সকলেই।
মেধাবী শিক্ষার্থীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও প্রাণঢালা অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মান্নান। প্রতিষ্ঠানের নবনির্বাচিত গভর্নিং বডির সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. সেলিম মিয়া, মোহাম্মদ আলী, মো. সাইফুল ইসলাম মানিক, মো. আব্দুল আজিজ ও দাতা সদস্য মো. সোহরাব হোসেন উত্তীর্ণদের উষ্ণ-রক্তিম শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।
উত্তীর্ণরা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৭৫৪, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ২৭ ও মানবিক বিভাগ থেকে ১২ জিপিএ ৫.০০ অর্জন করে। ইংলিশ ভার্সন ৯৮ জনে ৭৮ জিপিএ ৫ পেয়ে চোখধাঁধানো কৃতিত্ব প্রদর্শন করে। আনন্দ উল্লাস ও মিষ্টি বিতরণে প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আজ এক মহোৎসবের দিন ছিলো।
ফলাফল উত্তর অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে প্রিন্সিপাল মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লা উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্য বলেন, এই কৃতী শিক্ষার্থীদের আমরা সযত্নে গড়েছি। তারা দারুণ মেধাবী এবং একইসঙ্গে তারা স্মার্ট শিক্ষার্থী। আমাদের গভীর আস্থা ছিলো, এসএসসিতে তারা আকাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে সক্ষম হবে। সবচেয়ে বড়ো দিক হলো, এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা চ্যালেঞ্জ নিতে ভয় পায় না। পরীক্ষার হলে কঠোর শৃঙ্খলা আরোপিত হলেও আমাদের পরীক্ষার্থীরা মোটেও ঘাবড়ে যায়নি। কোভিড-১৯ ও জুলাইয়ের রণ ও রক্তঝরার দিনগুলোতেও শিক্ষার্থীরা মনোবল হারায়নি। আমার বিশ্বাস, এদের অভিযাত্রা বহুদূর।
বিজ্ঞান বিভাগের গোল্ডেন প্রাপ্ত শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌসী তাকিয়ার বাবা মো. তরিকুল ইসলাম মেয়ের রেজাল্টে অভিভূত হয়ে বলেন, আমার মেয়ের জীবনে অভাবিত সাফল্য এনে দিয়েছে সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ. এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পাঠের প্রশ্নে জবাবদিহিতা থাকে। ক্লাসের আগে-পরে নিয়মিত বিশেষ ক্লাসের কারণেই এমন অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। অসম্ভব শৃঙ্খলা ও উন্নত আদর্শ প্রতিষ্ঠানকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। আমার দৃষ্টিতে প্রিন্সিপাল মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লা স্যার একজন অনন্য শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ।
২০২৫ সালেও সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের এসএসসিতে শতকরা পাশের হার ছিলো ৯৪.৬৪ ও জিপিএ ৫ ছিলো ৬৩৫ টি। ২০২৫ সালে এইচএসসিতে ৪২৩ জিপিএ ৫ সহ পাশের শতকরা হার অর্জিত হয়েছে ৯৯.৯১। কেবল এসএসসি ও এইচএসসি নয়, প্রাথমিক ও জুনিয়র পর্যায়েও এই খুদে শিক্ষার্থীদের সাফল্য ভীষণরকম নজরকাড়া। ২০২৫ সালে প্রাথমিকে ৩১টি ট্যালেন্টপুল ও ৫৮টি সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জিত হয় এবং জুনিয়র বৃত্তিতে অর্জিত হয় ৮৫টি ট্যালেন্টপুল ও ১৬৮টি সাধারণ গ্রেড।
সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ অত্যাধুনিক চিন্তা ও চেতনার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক অঙ্গনও এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। এ অঙ্গন শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠে আহ্বান করে না, জীবনকেও ভালোবাসতে শেখায়।
