

মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় ও নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে বীর তরুণ ও 'জলযোদ্ধা' মোঃ ছাবিকুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী। নিজের জীবনের পরোয়া না করে দুই শিশুর প্রাণ বাঁচিয়ে বীরত্ব ও মানবতার এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছিলেন এই তরুণ। তাঁর এই আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং তরুণ প্রজন্মের মাঝে তাঁর বীরত্বগাথা ছড়িয়ে দিতে অষ্টগ্রামে সাড়ে চার কিলোমিটার এবং ১৪ কিলোমিটারের একটি বিশেষ ম্যারাথন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
আজ সকালে শুরু হওয়া এই ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা বয়সী মানুষ, বিশেষ করে যুবসমাজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
কে এই জলযোদ্ধা ছাবিকুল?
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জলযোদ্ধা মোঃ ছাবিকুল ইসলামের জন্ম ১৯৯৬ সালের ১৩ জুন, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের বরাতীর কান্দি গ্রামে। ২০২৩ সালের ১০ জুলাই তিনি এক মর্মান্তিক অথচ গৌরবোজ্জ্বল ঘটনার মধ্য দিয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
সেদিন হাওরে একটি নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটলে ছাবিকুল তাৎক্ষণিকভাবে প্রবল স্রোতের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়েন। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁতরে গিয়ে তিনি ডুবন্ত নৌকাটি থেকে ২টি শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে স্বজনদের হাতে তুলে দেন। কিন্তু সবাইকে বাঁচাতে পারলেও প্রবল স্রোতের কারণে তিনি নিজে আর তীরে ফিরতে পারেননি। পানির তীব্র টানে তিনি তলিয়ে যান এবং পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন অনেক চেষ্টার পর তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করেন।
ম্যারাথনে অংশ নেওয়া প্রতিযোগীরা জানান, ছাবিকুল আমাদের হাওরাঞ্চলের গর্ব। তিনি যেভাবে নিজের জীবন দিয়ে দুটি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন, তা আমাদের সবসময় মানবিক হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে এই ম্যারাথন আয়োজন সুস্থ জীবনচর্চার পাশাপাশি তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানোর একটি চমৎকার মাধ্যম।
উপস্থিত সুধীজন ও এলাকাবাসী ছাবিকুলের স্মৃতি রক্ষার্থে এবং তাঁর পরিবারের সহায়তায় প্রশাসনসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। ম্যারাথন শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
