

মানিক ভূঁইয়া, নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রসায়ন বিষয়ে পাঠদান করেছেন বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কায়েসুর রহমান। প্রশংসায় ভাসছেন বেগমগঞ্জ উপজেলার ইউএনও।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রসায়নের ‘জারণ-বিজারণ’ অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তিনি জটিল বিষয়গুলো সহজভাবে উপস্থাপন করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষয়ভীতি দূর করার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি ১ ঘন্টা ২০ মিনিট ধরে দশম শ্রেণির দুটি ক্লাস নেন।
ক্লাসে ইউএনও মো. কায়েসুর রহমান শিক্ষার্থীদের জারণ-বিজারণ সহজে মনে রাখার কৌশল শেখাতে বোর্ডে লিখেন।
“জারণ মানে ছাড়ন
জারণের ফলে ঘটে
জারণ সংখ্যার বাড়ন।”
এর মাধ্যমে তিনি ব্যাখ্যা করেন, জারণ হলো এমন একটি বিক্রিয়া যেখানে কোনো পদার্থ ইলেকট্রন ত্যাগ করে এবং এর ফলে ওই পদার্থের জারণ সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এই ছড়াটির পর তাদেরকে ছড়ার পরবর্তী লাইনগুলো কি হতে পারে জিজ্ঞেস করলে তারাই উত্তর দিল-
"বিজারণ মানে গ্রহণ
বিজারণের ফলে ঘটে
বিজারণ সংখ্যার কমন (হ্রাস)।"
অতঃপর বোর্ডে কিছু বিক্রিয়া লিখে তাদের জিজ্ঞেস করলাম- কোনটি জারক, কোনটি বিজারক, কোনটি জারিত, কোনটি বিজারিত, কোন অংশে জারণ, কোন অংশে বিজারণ, একটি বিক্রিরা রেডক্স নাকি নন রেডক্স, কোনো যৌগে কোনো মৌলের জারণ সংখ্যা কিভাবে তারা বের করবে ইত্যাদি ইত্যাদি। ততক্ষণে তারা খুব মনোযোগী হয়ে একটা "টু" শব্দও করেনি কারণ রসায়নের জারণ-বিজারণ নিয়ে তাদের ভীতি ইতোমধ্যেই চলে গিয়েছে। শিক্ষার্থীরা উৎসাহের সঙ্গে এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়।
ইউএনও বলেন, তিনি নিয়মিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং কীভাবে কোনো অধ্যায় সহজে আত্মস্থ করা যায় সে বিষয়ে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ উদ্যোগে শিক্ষকরা ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “পড়াশোনা হোক আনন্দময়, কনসেপ্ট হোক ক্লিয়ার।”
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ইউএনও'র এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
