

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দুটি সীমান্তের শুন্য রেখায় ভারতের অংশে টানা ৮ দিন ধরে আটকে আছে বিএসএফ'র পুশইন চেষ্টার শিকার ৫ যুবক। এরমধ্যে রৌমারীর গয়টাপাড়া সীমান্তে দুইজন এবং ভন্দুরচর সীমান্তে ৩ জন। কখনও বৃষ্টি, কখনও রোদের মধ্যে সামান্য প্লাস্টিকের ছাউনির নিচে প্রয়োজনী খাবার, গোসল ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ছাড়াই মানবেতর জীবন কাটছে তাদের।
দুই সীমান্তের শুন্য রেখায় পুশইন চেষ্টার শিকার ৫ জনের অবস্থান ঘিরে কঠোর অবস্থানে বিজিবি'র পাশাপাশি বিএসএফও। এছাড়াও বিএসএফ'র অবৈধ পুশইন ঠেকাতে জেলার ২৭৮ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি'র সাথে গ্রামবাসীও।
গত ১৪ জুন সকালে গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে দুই শিশু ও তাদের বাবা-মাসহ ৬ জন এবং ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে তিন যুবককে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে বাঁধা দেয় বিজিবি ও এলাকাবাসী। পরে তাদের দু'দেশের সীমান্তের শুন্য রেখায় ভারতের অংশে রাখা হয়। এরপর গত বুধবার সকাল থেকে দেখা মেলেনি দুই শিশু ও তাদের বাবা-মায়ের।
স্থানীয়দের ধারণা, দুই শিশুসহ তাদের বাবা-মাকে রাতের আধারে কোন দেশে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। কিন্তু সে তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি বিজিবি।
এদিকে অবৈধ পুশইন বন্ধ ও শুন্য রেখায় অবস্থান করা ৫ যুবককে ফিরিয়ে নেয়ার দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন জানায়, দিনের পর দিন, রাতের পর রাত খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে ৫ জন যুবক। আমরা স্থানীয়রা তাদের ভবিষ্যৎ কি বুঝতে পারছি না। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে হলেও দ্রুত সমস্যার সমাধান করে তাদের নিরাপদ স্থানে অর্থাৎ তাদের ফিরিয়ে নেয়া হোক।
এদিকে সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে থাকা পাঁচ যুবকের অনিশ্চিত জীবন নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। মানবিক সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান জানান, ঘটনাটির শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক সমাধানে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে ঠিক কবে নাগাদ এই সংকটের অবসান হবে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
