

হুমায়ুন কবীর রিন্টু, নড়াইল প্রতিনিধি: স্বামীর মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে স্ত্রীসহ দু’জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরোও ৫ জন।
বুধবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-নড়াইল মহাসড়কের নড়াইল সদরের পূর্ব বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাদশার গ্যারেজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, যশোর সদরের মাহিদীয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৫৫) এবং অ্যাম্বুলেন্স চালক আকবর হোসেন (২৯)। নিহত চালক আকবর লক্ষীপুরের রামগাতী উপজেলার পূর্ব চর-কলাকোপা গ্রামের আব্দুল হাসিমের ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, যশোর সদর উপজেলার মাহিদীয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেন বুধবার ভোরে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে মারা যান। তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। তার মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে তার স্ত্রী জাহানারা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে গ্রামের বাড়ি যশোরের মাহিদীয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করেন। অ্যাম্বুলেন্সটি নড়াইল সদরের পূর্ব বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বেপরোয়া গতির একটি লোকাল বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই জাহানারা মারা যান। আহতদের উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক অ্যাম্বুলেন্স চালক আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত জাহানারা’র ছেলে পুলিশের উপ-পরিদর্শক তাহের হোসেন ও তাদের সাথে থাকা সেলিম, মিন্টু, তানভীর এবং বাসযাত্রী সায়েরাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
অ্যাম্বুলেন্সে থাকা সেলিম ও মিন্টু বলেন, তারা এস আই তাহেরের বাবার মরদেহ নিয়ে যশোর যাচ্ছিলেন। নড়াইলের পূর্ব বালিয়াডঙ্গা এলাকায় পৌঁছালে দ্রুতগতির একটি লোকাল বাস বেপরোয়া গতিতে ওভারটেক করতে গিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। রাস্তা খারাপ থাকায় অ্যাম্বুলেন্সের গতি অনেক কম ছিলো। চালক পরিস্থিতি মোকাবেলা করার চেষ্টা করেন। লোকাল বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এসে অ্যাস্বুলেন্সে সজোরে ধাক্কা দেয়।
নড়াইল সদর থানার ওসি অজয় কুন্ডু জানান, অ্যাম্বুলেন্স ও লোকাল বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই পুলিশ কর্মকর্তার মা নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্স চালক মারা যান। এ ঘটনায় আরও ৫ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি জব্দ করা হয়েছে। অভিযুক্ত চালককে আটকের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
