

মতিয়ার রহমান মধু, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা জাহিদ হোসেন বিদেশি জাতের ‘বাইকুনুর’ আঙুর চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। রাশিয়া ও ইউক্রেনে জনপ্রিয় এই উচ্চফলনশীল জাতের আঙুর বাংলাদেশের মাটিতে সফলভাবে উৎপাদন করে তিনি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন।
সাধারণভাবে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় উন্নতমানের মিষ্টি আঙুর চাষ সম্ভব নয় এমন ধারণা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। তবে জাহিদ হোসেন তাঁর অধ্যবসায়, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
জাহিদের বাগানে উৎপাদিত বাইকুনুর আঙুর আকারে বড়, লম্বাটে এবং পাকার পর গাঢ় বেগুনি থেকে কালো বর্ণ ধারণ করে। রসালো ও মিষ্টি স্বাদের এসব আঙুর আমদানিকৃত আঙুরের সঙ্গে সহজেই প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তাঁর বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে আঙুর। ফলনের পরিমাণ ও গুণগত মান দেখে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারাও আশাবাদী। ইতোমধ্যে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক ও উদ্যোক্তারা বাগান পরিদর্শনে আসছেন এবং বাণিজ্যিকভাবে এই আঙুর চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
জাহিদ জানান, আঙুর চাষে তিনি আধুনিক ‘টি’ আকৃতির ট্রেলিস বা মাচা পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন, যাতে গাছ পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পায়। পাশাপাশি জৈব সার, ভার্মিকম্পোস্ট ও সুষম রাসায়নিক সার প্রয়োগের মাধ্যমে মাটির উর্বরতা বজায় রাখা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তিনি নিয়মিত ও সঠিক সময়ে ডাল ছাঁটাই (প্রুনিং) করার ওপর গুরুত্ব দেন, যা অধিক ফলন নিশ্চিত করেছে।
খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, “জাহিদের এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে যে সঠিক প্রযুক্তি ও পরিচর্যার মাধ্যমে দেশে উন্নত জাতের আঙুর চাষ সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগ দেশব্যাপী সম্প্রসারণ করা গেলে বিদেশি আঙুর আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।”
স্থানীয়দের মতে, জাহিদ হোসেন শুধু একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তাই নন; তিনি তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণারও প্রতীক। তাঁর এই সফলতা দেশের কৃষিখাতে নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে।
