

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বৃদ্ধি হয়ে নাব্যতা সংকট দুর হলে অবশেষে দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস পর আবারো চিলমারী-রৌমারী রুটে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ২টি পণ্যবাহী পরিবহন নিয়ে ফেরি কদম রৌমারীঘাট থেকে চিলমারী ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। এতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি শেষে স্বস্তিতে ফিরেছে দুই পাড়ের হাজারো মানুষের।
জানা গেছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ(বিআইডব্লিউএ)’র উদ্যোগে চিলমারী-রৌমারী নৌপথে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত বিআইডব্লিউটিসি’র দুটি ফেরিতে পণ্যবাহীসহ বিভিন্ন প্রকার পরিবহন পারাপার করে আসছে। ব্রহ্মপুত্র নদে নাব্য সংকটের কারণে গত বছরের ১৯ নভেম্বর হতে চিলমারী-রৌমারী নৌ-রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখে বিআইডব্লিউটিসি। এতে কুঞ্জলতা ও কদম নামের ফেরি দুটি প্রায় ৬ মাস ধরে রৌমারী ঘাটে পড়ে থাকে। সম্প্রতি উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও বৃষ্টির ফলে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পায়। এতে নদের নাব্যতা সংকট কেটে যায়। ফেরি চলাচলের চ্যানেলটি চলাচল উপযোগী হওয়ায় ফেরি চলাচলের উদ্যোগ গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে ফেরি কদম রৌমারীঘাট থেকে চিলমারীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওযার মধ্য দিয়ে এ রুটে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। কদম নামের ফেরিটি চিলমারী ঘাটে আসার মধ্যদিয়ে ফেরি চলাচল শুরু হওয়ার পর নিয়মিতভাবে ফেরি কুঞ্জলতাও চিলমারী-রৌমারীঘাটে চলাচল করবে বলে জানা গেছে। ফেরি চালু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক ও যাত্রীরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মজিবর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ফেরি বন্ধ থাকায় পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হয়েছে তাদের। সময় মতো মালামাল পৌঁছাতে না পারায় ব্যবসায়ও ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। ফেরি চালু হওয়ায় এখন ব্যবসায়ীরা অনেকটাই স্বস্তি পাবেন।
ট্রাকচালক শাহিন মিয়া বলেন, ফেরি বন্ধ থাকায় বিকল্প সড়ক দিয়ে ঘুরে যেতে অনেক সময় ও জ্বালানি খরচ হতো। এতে আমাদের ভোগান্তির শেষ ছিল না। এখন ফেরি চালু হওয়ায় কম সময়ে সহজেই গাড়ি পারাপার করা যাবে।
স্থানীয় শিক্ষক আবু সাঈদ বলেন, রৌমারী-চিলমারী ফেরি চালু হওয়ায় এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা আবারও সচল হলো। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হবে। আমরা চাই, ফেরি চলাচল যেন স্থায়ীভাবে অব্যাহত থাকে।
বিআইডব্লিউটিসি'র চিলমারীর সহকারী ব্যবস্থাপক(বাণিজ্য) ঘাট ইনচার্জ মো.আকিব হোসেন আকাশ জানান, নাব্যতা সংকটের কারণে গত বছরের ১৯ নভেম্বর তারিখ থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। সম্প্রতি ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঘাট ও রাস্তা প্রস্তুত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ২টি পণ্যবাহী গাড়ী নিয়ে ফেরি কদম রৌমারীঘাট থেকে ছেড়ে চিলমারীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এখন থেকে ২টি ফেরি চিলমারী-রৌমারী নিয়মিত চলাচল করবে বলে জানান তিনি।

