

মো: নাজমুল হোসেন ইমন, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বন্ধ কার্পেট তৈরির কারখানায় মিললো ১১ হাজার ৫৭৫ বস্তা চাল। অবৈধভাবে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এসব চাল বস্তা বদল করে বিভিন্ন মোড়কে বাজারজাত করা হচ্ছিল। গুদামে চাল রাখার কোনো লাইসেন্স দেখাতে না পারায় এক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। এসব চালের পরিমাণ ৫৭৮ টন।
গতকাল বুধবার (১৩ মে) বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কদমরসুল এলাকার ‘সালেহ কার্পেট’ নামে একটি বন্ধ কারখানার গুদামে অভিযান চালায় র্যাব-৭।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেন। এছাড়াও খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা রাজীব কুমার দে ও সীতাকুণ্ড থানার পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আব্দুল আজিজ নামের এক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। পরে গুদামটিও সিলগালা করে দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
র্যাব জানায়, আব্দুল আজিজ নামের আটক হওয়া ব্যবসায়ী অবৈধভাবে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের চাল বস্তা বদল করে বিভিন্ন মোড়কে বাজারজাত করে আসছেন। গুদামে চাল রাখার জন্য কোনো ধরনের লাইসেন্স দেখাতে পারেননি তিনি। সালেহ কার্পেট কারখানার ভেতরে উত্তর পাশের বড় গুদামের ভেতর সারি সারি চালের বস্তার স্তূপ ছিল। মূল ফটকের ভেতরে বাম পাশে নুরজাহান ব্র্যান্ডের চালভর্তি বস্তা স্তূপ করে রাখা হয়। ভেতরের দিকে বাম পাশে খাদ্য অধিদপ্তরের সিলযুক্ত চালভর্তি বস্তা পাওয়া গেছে। এর পাশেই ছিল চিংড়ি ব্র্যান্ডের চালের বস্তা। মূল ফটকের ডানে অন্যান্য ব্র্যান্ডের খোলা বস্তাভর্তি চাল রাখা হয়।
র্যাব-৭ চান্দগাঁও ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. তাওহীদুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা সালেহ কার্পেট কারখানার ভেতরের গুদামে অভিযান চালানো হয়। ভেতরে চাল গুদামজাত করে বাজারে সংকট তৈরির চেষ্টা করছিল একটি চক্র। সরকারি চাল বস্তা থেকে খুলে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বস্তায় ভরে রাখা হচ্ছে। আটক আব্দুল আজিজ গুদামজাত করার কোনো লাইসেন্স দেখাতে পারেনি। ফলে চালগুলো জব্দ করা হয়েছে।
খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা রাজীব কুমার দে জানান, গুদামজাতকারীর খাদ্য গুদামজাতকরণের কোনো লাইসেন্স নেই। এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বস্তায় খাদ্য অধিদপ্তরের সিলমোহর দেওয়া। তা থেকে প্রমাণ হয়, সেগুলো খাদ্য অধিদপ্তরের গুদাম থেকে বেরিয়েছে। এখন কীভাবে এই চাল বেরিয়েছে, তা তদন্তসাপেক্ষ ব্যাপার।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান, গুদামে খাদ্য অধিদপ্তরের মোড়কে ১ হাজার ১৭২ বস্তা চাল রয়েছে। যার কোনো কাগজপত্র আটক ব্যক্তি দেখাতে পারেননি। এ ছাড়া একটি কারখানার ভেতরে এভাবে চাল গুদামজাত করার জন্য সরকারি কোনো লাইসেন্স তিনি দেখাতে পারেননি। গুদামে বিভিন্ন মোড়কে বস্তায় ৫৭৮ টন চাল রয়েছে। এখন সেগুলো সরকারি চাল কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গুদামটি সিলগালা করে পুলিশের জিম্মায় দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ নিয়মিত মামলা করবে বলে জানান তিনি।

