

মাসুদ রানা, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় কৃষকের দোরগোড়ায় আধুনিক কৃষিসেবা পৌঁছে দিতে বাস্তবায়িত কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘এসএসিপি-রেইনস’ প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের সুপারভিশন মিশন টিম।
মঙ্গলবার (১২ মে) দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রকল্পের কার্যক্রম ঘুরে দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি জেনিফার। এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বাংলাদেশি প্রতিনিধিবৃন্দ, এসএসিপি-রেইনস প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. এমদাদুল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান সরকার, উপজেলা কৃষি অফিসার ইয়াসমিন আক্তারসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
জানা গেছে, কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা, টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং মাঠপর্যায়ে সহজে কৃষিসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রকল্পটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর আওতায় কৃষকদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা, উন্নত বীজ ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান, রোগবালাই দমন ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত গ্রাসরুট সার্ভিস আউটলেট ঘুরে দেখেন। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে দ্রুত ও সহজভাবে কৃষি পরামর্শ, উন্নত কৃষি প্রযুক্তি, সার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই দমন সংক্রান্ত সেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সেবার কার্যক্রম, কৃষকদের অংশগ্রহণ এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

এ সময় স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে কৃষি বিষয়ক নানা সমস্যার সমাধানের জন্য উপজেলা কিংবা জেলা পর্যায়ে যেতে হতো। এখন স্থানীয় পর্যায়েই সহজে কৃষি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনও বেড়েছে। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহ বাড়ায় কৃষকদের মধ্যে নতুন উদ্যম সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানান তারা।
পরে প্রতিনিধি দল উপজেলার আঙ্গারপাড়া গ্রামে স্থাপিত একটি কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ স্কুল পরিদর্শন করেন। সেখানে তারা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। কৃষকদের জলবায়ু সহনশীল চাষাবাদ, পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসল উৎপাদন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে জানা যায়।
মতবিনিময়কালে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি জেনিফার বলেন, মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে এ ধরনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, সরকারের কৃষিবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়নে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির সঙ্গে কৃষকদের সম্পৃক্ত করতে প্রকল্পের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার ইয়াসমিন আক্তার জানান, প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, মাঠপর্যায়ে পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এতে কৃষকদের মধ্যে আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ব্যবহারের আগ্রহ বাড়ছে এবং উৎপাদনশীলতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দল প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এসময় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় কৃষক-কৃষাণী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।

