

শহিদ জয়, যশোর: যশোর শহরে উদ্ধার হওয়া একটি ‘রহস্যজনক’ প্রাইভেটকার ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গাড়িটি আটকের ঘটনায় ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে যশোর পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা হীরা খাতুন (৩৮)। তবে পাল্টা প্রেস ব্রিফিং করে সেই অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে যশোর জেলা পুলিশ।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিরাজুল ইসলাম বলেন, গত ২৭ মার্চ রাতে যশোর কোতোয়ালি থানা সংলগ্ন এলাকায় রিচম্যান পোশাক শোরুমের সামনে দীর্ঘ সময় ধরে একটি রেড ওয়াইন রঙের টয়োটা সিএইচআর হাইব্রিড গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-২১-৪১১৩) পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় এক ব্যক্তি থানায় খবর দেন।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত সোয়া ৮টার দিকে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে গাড়িটি বেওয়ারিশ হিসেবে জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশের ভাষ্য, গাড়ির আশপাশে কোনো চালক বা মালিকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, পরবর্তীতে হীরা খাতুন থানায় এসে গাড়িটির মালিকানা দাবি করেন। তবে তাকে আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করে গাড়ি ছাড়িয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি এখন পর্যন্ত আদালতের কোনো আদেশনামা বা বৈধ কাগজপত্র থানায় জমা দেননি।
পুলিশের দাবি, এ অবস্থায় থানার বিরুদ্ধে ‘অবৈধভাবে গাড়ি আটকে রাখার’ অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। যশোর পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, হীরা খাতুন বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের মাগুরা জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক। তার স্বামী মৃত আলী আহমেদের বিরুদ্ধে একাধিক চাঞ্চল্যকর ডাকাতি মামলা তদন্তাধীন ছিল বলেও পুলিশ উল্লেখ করে।
উল্লেখ্য, সোমবার ঢাকার ক্র্যাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে হীরা খাতুন অভিযোগ করেন, যশোরের একটি স্বর্ণ পাচারচক্র তার স্বামীকে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল। যশোরের যুবদল নেতা আনসারুল হক রানা ও শার্শা উপজেলার ‘গোল্ড খ্যাত' স্বর্ণ কারবারি শহীদ’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৪ কোটি টাকার স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে চাপ প্রয়োগের কথাও জানান তিনি। তার দাবি, এসব চাপের কারণেই গত ৫ জানুয়ারি স্ট্রোক করে তার স্বামীর মৃত্যু হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে তার কলেজপড়ুয়া ছেলেকে যশোরের আরবপুর এলাকা থেকে প্রাইভেটকারসহ তুলে নিয়ে পাঁচ দিন আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরে মাগুরা জেলা যুবদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট ওয়াকিসকুর রহমান কল্লোলের সহযোগিতায় ছেলে ও গাড়িটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এরপর গাড়িটি যশোর কোতোয়ালি থানায় জমা দেওয়া হলেও পুলিশ সেটি আর ফেরত দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে যশোর জেলা পুলিশ বলছে, পুরো বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে এবং আদালতের নির্দেশ ছাড়া গাড়ি হস্তান্তরের সুযোগ নেই। তাছাড়া এখনও পর্যন্ত কেউ বৈধ কাগজপত্র নিয়ে যোগাযোগ করেননি বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) রাজিবুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাখাওয়াত হোসেন এবং কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান।

