ঢাকা
logo
প্রকাশিত : May 6, 2026

পুঠিয়ায় ঐতিহ্যের উপর হাতুড়ি! রাজবাড়ি কমপ্লেক্সের ভবন ভাঙা নিয়ে জিডি

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি: ইতিহাস কি তবে হার মানছে দখলদারির কাছে? রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ি কমপ্লেক্স–এর এক প্রাচীন ভবন ভাঙাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। তদন্তে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।

মঙ্গলবার পুঠিয়া থানায় জিডি দায়ের করেন রাজবাড়ির কাস্টডিয়ান হাফিজুর রহমান। অভিযোগ, ঐতিহ্যবাহী ওই ভবনটি ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে ফেলার চেষ্টা চলছে, এমনকি ইতোমধ্যে তার একাংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের বক্তব্য, রাজবাড়ি কমপ্লেক্সের সামনের অংশে পুঠিয়া-আড়ানী সড়কের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা এই ভবন একসময় ছিল রাজবাড়ির দারোয়ান নিতাই শিং-এর আবাস। বর্তমানে সেখানে বসবাস করছেন পুঠিয়া পৌরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর মনিরুল ইসলাম সাবু। অভিযোগ উঠেছে, তিনিই ভবনটি ভাঙার উদ্যোগ নিয়েছেন।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের দাবি, এটি কেবল একটি পুরনো বাড়ি নয়, বরং সমগ্র রাজবাড়ি কমপ্লেক্সের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যার নির্মাণকাল ১৮২৩ থেকে ১৮৩০ সালের মধ্যে। ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে ইতোমধ্যেই দু’দফা ভাঙার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই ফের শুরু হয়েছে ভাঙচুর।

ঘটনাস্থলের অদূরেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বড় শিব মন্দির ও দোল মন্দির, যা গোটা অঞ্চলটিকে এক অনন্য ঐতিহ্যবাহী পরিমণ্ডলে বেঁধে রেখেছে। সেই আবহেই যেন আচমকা আঘাত এই ভাঙন।

এরই মাঝে সামনে এসেছে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্থানীয়দের দাবি, ভবন থেকে সরানো হয়েছে কিছু প্রাচীন আসবাবপত্র। একটি আয়নাযুক্ত চেয়ার বিশেষভাবে নজর কেড়েছে, যা রাজপরিবারের ব্যবহৃত বলে সন্দেহ করছেন অনেকেই। যদিও সেই দাবি খারিজ করেছেন মনিরুল ইসলাম। তাঁর কথায়, “পুরনো জিনিস হতে পারে, কিন্তু রাজপরিবারের নয়।”

অন্যদিকে মনিরুল ইসলামের সাফ বক্তব্য, জমিটি তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি। তাঁর দাবি, পাকিস্তান আমলে তাঁর দাদা ইয়াকুব আলী স্বর্ণকার এই বাড়িসহ জমি কিনেছিলেন। যদি সরকার এটিকে ঐতিহ্য বলে দাবি করে, তা হলে অধিগ্রহণ করুক, বলেছেন তিনি।

পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, জিডিটি আদালতে পাঠিয়ে তদন্তের অনুমতি চাওয়া হবে। অনুমতি মিললেই শুরু হবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এখন প্রশ্ন একটাই, ঐতিহ্য রক্ষা পাবে, না কি ব্যক্তিগত মালিকানার যুক্তির সামনে হার মানবে ইতিহাস? উত্তর দেবে সময়ই।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram