

মোহাম্মদ আরীফুল ইসলাম, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর-মানিকদী সংযোগ জিল্লুর রহমান সেতু এলাকা বর্তমানে আতঙ্কের অন্য এক নাম। সেতুটিকে ঘিরে জাতীয় বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানে বাঁধভাঙ্গা মানুষের বিচরণ হলেও বর্তমানে তা আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। সেতু এলাকায় আবারও এক স্কুল ছাত্রী অপহরণ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।
গত ১৯ এপ্রিল রবিবার দুপুরে ঘুরতে আসা এক স্কুল ছাত্রীকে তার প্রেমিকের কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে ছিনিয়ে নিয়ে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই দিন দুপুরের দিকে কিশোরী তার প্রেমিকের সঙ্গে সেতু এলাকায় অবস্থান করছিল। এ সময় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রেমিককে মারধর করে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক একটি নির্জন বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রায় ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা আটকে রেখে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। একই সঙ্গে নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার ওই স্কুল ছাত্রীর বাড়ি বাজিতপুর উপজেলার সরারচরের মাছিমপুর এলাকায় বলে জানা যায়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর প্রেমিক স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সহায়তায় উদ্ধার হয়। পরে মো. তামিম নামে এক অভিযুক্তকে তার বাড়ি থেকে আটক করে স্থানীয়রা। এ সময় ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন ও মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়। আটককৃত অভিযুক্ত মো. তামিম কুলিয়ারচর পৌর শহরের চারারবন এলাকার মৃত ফরিদ উদ্দিনের ছেলে। পরে তাকে কুলিয়ারচর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
স্থানীয়রা বলেন, সেতু ও এর আশেপাশের এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠেছে। প্রায়ই একই কৌশলে একের পর এক ঘটনা ঘটছে এখানে।
উল্লেখ্য, গত ৭ ফেব্রুয়ারি একই এলাকায় ঘুরতে আসা এক দম্পতির সাথেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়, পরে তাকে তুলে নেওয়া স্থানেই ছেড়ে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর বাড়ি ভৈরব এবং তার স্বামীর বাড়ি কটিয়াদীতে বলে জানা যায়। মানসম্মানের ভয়ে তারা কোনো অভিযোগ করেনি।
জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিয়মিতভাবে এ এলাকায় আসা প্রেমিক-প্রেমিকা ও দম্পতিদের টার্গেট করে। পরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পুরুষ সঙ্গীকে আলাদা করে নারীদের নির্জন স্থানে নিয়ে নির্যাতন করে। এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয় না।
সম্প্রতি এই ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সেতু এলাকায় আগত দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানান।

