

রমজান আলী, সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার প্রতিটা ইউনিয়নে ২ থেকে ৩ টি করে কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও অধিকাংশ ক্লিনিকেই প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি রয়েছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে অন্তত ২২ ধরনের প্রয়োজনীয় ওষুধ থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে সেখানে মাত্র ২ ধরনের ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে, তাও সীমিত পরিমাণে। প্রায় ৮ মাস ধরে নতুন করে ওষুধ সরবরাহ না আসায় এই সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও সেবাগ্রহীতা নুরুল আলম বলেন, “আগে জ্বর, সর্দি-কাশি, ব্যথাসহ সাধারণ রোগের ওষুধ সহজেই পাওয়া যেত। কিন্তু এখন কয়েক বছর ধরে ঠিকমতো ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হয়, যেখানে যাতায়াত খরচ আমাদের জন্য বড় বোঝা।”
ইছামতি কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডার মাইমুনা আক্তার জানান, কাগজে-কলমে ২২ ধরনের ওষুধ থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে মাত্র ২ ধরনের ওষুধ রয়েছে। প্রায় ৮ মাস ধরে নতুন কোনো ওষুধ সরবরাহ আসেনি। এছাড়া একটি ক্লিনিকের আওতায় প্রায় ৬ হাজার মানুষের সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক এলাকায় সেই অনুপাতে ক্লিনিক নেই, ফলে চাপ আরও বেড়েছে। ঠিকমত সেবা দিতে পারতেছি না।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমস্যাটি ইতোমধ্যে কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. এ.টি.এম. মনজুর মোর্শেদ বলেন, “আমরাও বিষয়টি শুনেছি যে ক্লিনিকগুলোতে ঠিকমতো ওষুধ সরবরাহ হচ্ছে না। এ বিষয়ে আমরা জেলা অফিস ও সিভিল সার্জন বরাবর চিঠি দিয়েছি।”
স্থানীয়দের মতে, ওষুধ সংকটের কারণে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে আগের মতো সেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন।

