

মো. নাসির উদ্দিন, টাঙ্গাইল: ২৫ বছর যাবত নির্বাচনী মাঠে ভোট প্রার্থনা করে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে, টাঙ্গাইলে সকল শ্রেণীপেশার মানুষের পরিচিত মুখ সৈয়দ খালেক মোস্তফা। তিনি কোন সভা সমাবেশ করেন না। তার কোন নেতাকর্মী নেই। তিনি পায়ে হেঁটে সাধারণ জনগণের কাছে ভোট চান বাড়ি বাড়ি গিয়ে। টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন স্থানে চোখে পড়ে তার পোস্টার। শহর ইউনিয়ন ও গ্রামগঞ্জের প্রতিটা দেয়াল ও বিদ্যুতের খুটিতে নিজ হাতে লিখেছেন সৈয়দ খালেক মোস্তাফাকে ভোট দিন। পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদ প্রার্থী হন ও জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থক নয়, তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডির) সমর্থন নিয়ে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের উত্তর তারুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ খালেদ মোস্তফা। সৈয়দ খালেদ মোস্তফা গত ২০০০ সাল থেকে নিয়মিত নির্বাচনের প্রস্ততি নিয়ে মাঠে-ঘাটে, শহরে, গ্রামগঞ্জে পায়ে হেটে ঘুরে ঘুরে সকলের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন। পৌরসভার নির্বাচনেও প্রার্থী হন মেয়র পদে আবার সংসদ নির্বাচন আসলে সংসদ সদস্য প্রার্থী হন তিনি। টাঙ্গাইলের সকল শ্রেণী পেশার মানুষের পরিচিত মুখ সৈয়দ খালেদ মোস্তফা। ২০০৭ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও প্রস্ততি নিয়েছিলেন। ২০০৮ সালেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন দেবার পরও মনোনোয়ন পত্র বাতিল হয়ে যায়।
সৈয়দ খালেদ মোস্তফা বলেন, গত ২৫ বছর ধরে আমি টাঙ্গাইলে নির্বাচনী মাঠে কাজ করছি। জনগণের কাছে যাচ্ছি। তাদের প্রতি আমার বিশ্বাস আছে। জনতা দেশের শান্তি চায়। তারা টাঙ্গাইল তথা দেশের উন্নয়ন চায়। আর তারা বিশ্বাস করে আমার দ্বারা টাঙ্গাইলের উন্নয়ন সম্ভব। আমার বিশ্বাস, জনগণ ভোট দিয়ে একজন নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে আমাকে নির্বাচিত করবে।
আমি টাঙ্গাইলের প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়েছি, অফিস আদালতে গিয়েছি, মাঠে ঘাটে সাধারণ জনগণের কাছে গিয়ে ভোট আবেদন করেছি। জনগণ আমাকে আশ্বাস দিয়েছে তারা আমাকে ভোট দিবে। জনগণ একজন সৎ লোককে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে চায়। আর সে হিসেবে তারা আমাকেই বেছে নিবে বলে আমার বিশ্বাস। আমি কোন খারাপ কাজ করি না, কারোর হক মেরে খাই না, আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আজ পর্যন্ত কেউ দিতে পারবে না।
আমি শহরমুখী গ্রামগুলোর ভোটারদের ভোট বেশি আশা করছি। এছাড়া মহিলা ভোটার ও বৃদ্ধদের কাছ থেকে বেশি সাড়া পাচ্ছি। অনেকেই আমাকে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর জন্য ধন্যবাদও জানাচ্ছে। তারা নতুন মুখ দেখতে চায়।
জনগণ যদি আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে তবে আমি নিঃস্বার্থভাবে জনগণের জন্য পরিশ্রম করবো। শ্রমিকের মতো খাটবো। মানুষের টাকার প্রতি আমার কোন লোভ নেই। আর নির্বাচিত হলে আমার প্রথম কাজ হবে টাঙ্গাইল শহরের রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। স্কুল কলেজের আরো উন্নয়ন করা, বয়স্কভাতা সঠিকভাবে প্রদান করা, সর্বপরি টাঙ্গাইলকে একটি আধুনিক শহর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
আমি নির্দলীয় প্রার্থী। আমি রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে সাধারণ জনগণের কাছে যাই। ধানের ক্ষেতে কৃষকের কাছে যাই। সাধারণ জনগণের কষ্টটা আমি বুঝি। আমি কোন সভা-সমাবেশ করে আমার প্রচারণা করি না। আমার পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও সাধারণ জনগণই আমার প্রচারণা করে। জনগণ নিজেরা টাকা তুলে আমার পোস্টার ছাপাচ্ছে। তাই নির্বাচিত হলে আর সরকারের সহায়তা পেলে আমি আমার প্রতিশ্রুতি শতভাগ বাস্তবায়ন করতে পারবো বলে আমার বিশ্বাস।
টাঙ্গাইল সদর আসনের ভোটার রাসেদ রহমান জানান, সৈয়দ খালেক মোস্তফা সারাবছরই নির্বাচনের মাঠে প্রচার প্রচারণা চালায়। যে দিন নির্বাচন শেষ তার পরের দিন থেকেই আবার ভোট চাওয়া শুরু করে। সে নির্বাচন পাগল একজন মানুষ।
বেড়াবুচনা গ্রামের আল আমিন জানান, সৈয়দ খালেক মোস্তফা একজন সাদাসিধে ভালো মানুষ। মনে হয় তার মাথায় সমস্যা আছে। তাই সরাবছরই নির্বাচনের ভোট চায়। আর কোন কাজকর্ম নেই ভোট চাওয়া ছাড়া।
ভোটার রুমন, আল আমিন, মোমেন জানান, ছোট বেলা থেকেই দেখতেছি সৈয়দ খালেদ মোস্তফা ভোট চান। সে বলে বেড়ায় এমপি পদে আমাকে খালেদ মোস্তফাকে ভোট দিবেন। দয়া করে আমাকে একটা ভোট দিবেন।

