ঢাকা
১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সকাল ১১:০০
logo
প্রকাশিত : এপ্রিল ১৮, ২০২৬

আলোচনায় দুই সিটি নির্বাচন

ঢাকার দুই মেয়রের বিকল্প হিসেবে প্রশাসক বসানো হলেও শতভাগ নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা যায়নি। নগরীর বাসিন্দারা চান দ্রুত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তাই আলোচনায় এখন সিটি করপোরেশন নির্বাচন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে তৎপর হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক দলগুলো। সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের উদ্যোগ নেবে। ভোটের দিন-তারিখ ঠিক না হলেও রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের আলোচনায় এখন কারা হচ্ছেন নগরপিতা সেই হিসাব-নিকাশ। এ অবস্থায় নগরপিতা হওয়ার দৌড়ে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপির সম্ভাব্যরা প্রার্থী হিসেবে নিজেদের জানান দিচ্ছেন।

জানা যায়, বিশেষ করে যারা সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি এমন নেতারা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হতে বেশি তৎপর। আবার মনোনয়ন পেয়েও নির্বাচনে জয় পাননি যারা তারাও রয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায়। প্রার্থীরা দলের সিনিয়র নেতাদের কাছে তাদের আগ্রহের কথা জানাচ্ছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে তারা শহরজুড়ে পোস্টার সাঁটিয়ে নগরবাসীকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। অনেক আগ্রহী প্রার্থী বলছেন, প্রত্যাশা ছিল নির্বাচিত সরকার আসার পর পরই সিটি নির্বাচনের উদ্যোগ নেবে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সেবাদান কার্যক্রম। কিন্তু নতুন করে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় সেই নাগরিক সেবা ফের বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। তাই সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি চায় দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন। বিএনপির অনেকেও এ নির্বাচনের দিকে চেয়ে আছেন। কে হবেন তাদের প্রার্থী? এ ছাড়া এ নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচনের মতো বিএনপি এককভাবে না জোটবদ্ধভাবে লড়বে, তাও এখন স্পষ্ট নয়।

তবে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির মধ্যে নির্বাচনি ঐক্যের সম্ভাবনা রয়েছে। গুঞ্জন রয়েছে, ডিএসসিসিতে এনসিপির মনোনীত প্রার্থীকে জামায়াত সমর্থন দিতে পারে এবং ডিএনসিসিতে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীকে এনসিপির পক্ষ থেকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ঢাকা দক্ষিণে আলোচনায় যারা : বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বর্তমান প্রশাসক আবদুস সালাম। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করেছেন ঢাকা সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র হিসেবেও। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচন পরিচালনায় প্রধান সমন্বয়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এ বিষয়ে আবদুস সালাম বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী আমাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দিলে অবশ্যই নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করব। অতীতেও সিটিতে ডেপুটি মেয়র হিসেবে আমার কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে।

অপরদিকে বিএনপিতে মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন দলের ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। তাঁকে নিয়ে কর্মী-সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ রয়েছে। তিনিও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক মামলাও হয়েছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি দলটির যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনের বিষয়ে জানান, দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এ ছাড়া বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনও। আওয়ামী লীগ আমলে মেয়র পদে নির্বাচনও করেছিলেন তিনি।

অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আলোচনায় রয়েছেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকট ড. হেলাল উদ্দীন, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. আবদুল মান্নান, দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য মেজবাহ উদ্দিন সাঈদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি সাদিক কায়েম। তবে জামায়াতের বিভিন্ন সূত্র জানায়, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থিতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অপরদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষ থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঢাকা উত্তরে ভোটযুদ্ধে আগ্রহী যারা : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) বিএনপির প্রধান আকর্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে গত নির্বাচনের প্রার্থী তাবিথ আউয়ালকে। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বর্তমানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাবিথ আউয়ালকে নিয়ে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন বিএনপি নেতারা। তারা বলছেন, বয়সে তরুণ হলেও বিগত নির্বাচনে অংশ নেওয়া এ নেতা প্রার্থী হলে নির্বাচনে ভোটের কৌশলে এগিয়ে থাকবে বিএনপি। ডিএনসিসির বর্তমান প্রশাসক ও যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনও রয়েছেন আলোচনায়। তিনি যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্য সচিব ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের কাছে পরাজিত হন।

অপরদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন দলের ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ঢাকা-১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ডা. এস এম খালেদুজ্জামান। এ ছাড়া এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন ঢাকা উত্তরে দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন একটি বহুমাত্রিক প্রতিযোগিতায় রূপ নেবে। এখানে শুধু দলীয় শক্তি নয়, বরং প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, নগর ইস্যুতে অবস্থান, সংগঠনের গভীরতা এবং ভোটারদের মনস্তত্ত্ব সবকিছুর সমন্বয়ই নির্ধারণ করবে চূড়ান্ত ফলাফল। আশা করব, সরকার স্থানীয় নির্বাচনে সময়ক্ষেপণ করবে না। যদি সময়ক্ষেপণ করে, তবে জনগণের মাঝে ক্ষোভ তৈরি হবে। এমনিক নির্বাচনে যদি প্রভাব বিস্তার করতে যায়, তবে সরকার ও বিএনপির জন্য ক্ষতির কারণ হবে।

logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram