

মোবারক হোসেন, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শেষ সময়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে নির্মমভাবে নিহত জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে (১৪ ডিসেম্বর) স্থানীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভায় জাতীর এই সূর্য সন্তানদের স্বরণ করা হয়।
এদিন সকাল ১০ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খায়রুন্নাহার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মাজহারুল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ হাবেল উদ্দিন উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খাইরুন্নাহারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মাজহারুল ইসলাম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা মফিজুর রহমান খান বিবেক, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মোঃ সাজেদুল ইসলাম, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, এবিএম আব্দুল হান্নান।
এছাড়াও সিংগাইর সরকারি কলেজের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক বেণী মাধব সরকারের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার ইব্রাহীম হোসেন, সমাজসেবা অফিসার মঞ্জুরুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন অফিসার মোঃ আব্দুল ছালেক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুর রহমান আখি প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বিজয়ের ঠিক আগ মুহূর্তে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর আলবদর, আলশামস ও রাজাকাররা জাতিকে মেধাশূন্য করতে পরিকল্পিতভাবে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়। শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাহিত্যিক ও শিল্পীসহ বরেণ্য ব্যক্তিদের বাসা থেকে চোখ বেঁধে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও জাতি গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
এসময় উপজেলা মৎস্য অফিসার সাদিয়া রহমান, মহিলা বিষয়ক অফিসার রেশমা আক্তার, সিংগাইর সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আরিফুর রহমান ও সিংগাইর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আবু বকর সিদ্দিকীসহ উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

