ঢাকা
১লা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ৯:৩৯
logo
প্রকাশিত : নভেম্বর ২৫, ২০২৫

নবীনগরে দল বেঁধে তিন কিলোমিটার পথ সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যায় মেয়েরা

মো. আনোয়ার নবীনগর, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শতাব্দী প্রাচীন শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী নাহিদা এখন রোজ স্কুলে আসে। নাহিদার বাড়ি রসুল্লাবাদ গ্রামে, স্কুল থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে রসুল্লাবাদ। নাহিদা আগে হেঁটেই স্কুলে আসত। কষ্ট হতো, স্কুলে সময়মতো পৌঁছাতেও পারত না কোনো দিন। প্রায়ই স্কুলে অনুপস্থিতও থাকত। স্কুল থেকে বাইসাইকেল পাওয়ায় তার স্কুলে যাতায়াতের কষ্ট লাঘব হয়। নাহিদার মতো ১০০ জন ছাত্রী এখন রোজ বাইসাইকেল নিয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে। সকাল ৯টা বাজতেই এক এক করে, আবার কখনো দলবেঁধে প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের মেয়েরা বাইসাইকেল চালিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে শুরু করে। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হতে সামাজিক বাধা নির্বিঘ্নে অতিক্রম করে (বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, নারী নির্যাতন)-কে পরোয়া না করে বাইসাইকেল চালিয়ে নিয়মিত স্কুলে আসা-যাওয়া করছে। দল বেঁধে শিক্ষার্থীদের আসা-যাওয়ার এ মনোরম দৃশ্য প্রতিনিয়ত চোখে পড়ে।

শিক্ষার আলো পেতে প্রতিদিন ২-৪ কিলোমিটার দূর থেকেও ছাত্রীরা সাইকেলে যাতায়াত করে। বিশেষ করে শান্তিপুর, নাছিরাবাদ, নোয়াগ্রাম, শ্রীঘর, রসুল্লাবাদ, বানিয়াচং, কুড়িনালসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে তারা বাইসাইকেল চালিয়ে আসে। ১৯০০ সালে স্থাপিত এ প্রতিষ্ঠানটির ২০০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে বেশির ভাগই মেয়ে। এক সময় স্কুলে ছাত্রীদের উপস্থিতি বেশ কম ছিল। দূরত্ব আর সামাজিক অবস্থার কারণে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মেয়ে নিয়মিত স্কুলে অনুপস্থিত থাকতো। এ পরিস্থিতিতে গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতির উদ্যোগে মেয়েদেরকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল প্রদান করেন।

ফাতেমা আক্তার নামে এক শিক্ষার্থী বলে, আমার বাড়ি স্কুল থেকে দুই কি.মি দূরে। প্রতিদিন বাইসাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাতায়াত করি। প্রথম প্রথম সমস্যা হতো, কিন্তু এখন কোনো সমস্যা হয় না। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাশিদা আক্তার জানায়, আগে হেঁটে স্কুলে আসতে অনেক সময় লাগতো। তাই নিয়মিত স্কুলে আসা হতো না। এখন বাইসাইকেল নিয়ে আসার কারণে সময় অনেক বেঁচে যায়। টিফিনের সময় বাড়ি গিয়ে খেয়ে আবার স্কুলে আসতে পারি। প্রশাসন তৎপর থাকায় রাস্তা-ঘাটে কেউ উত্যক্ত করার সাহস পায় না"।

পল্লী চিকিৎসক মো. আক্কাছ মিয়া জানান, আমার বাড়ি থেকে স্কুল দূরে হওয়ায় আমার মেয়ের প্রতিদিন স্কুলে যেতে অসুবিধা হতো। স্কুলে থেকে বিনামূল্যে সাইকেল পাওয়ায় সে নিয়মিত স্কুলে যায়। গ্রামাঞ্চলে মেয়ে সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যায়, কিছু লোকের কাছে দৃষ্টিকটু মনে হলেও আমি মেয়েকে সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ দেই।

শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোস্তাক আহাম্মদ বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে এখন গ্রামাঞ্চলের মেয়েরা অনেক এগিয়ে। তারা বাইসাইকেল চালিয়ে স্কুল কলেজে আসা-যাওয়া করছে। এতে শিক্ষার্থীদের সময় নষ্ট হচ্ছে না। সাইকেল গুলো সংরক্ষিত রাখার জন্য প্রতিষ্ঠানে স্ট্যান্ড তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘সাইকেলে একসঙ্গে দল বেঁধে চলার কারনে নিরাপত্তা নিয়ে ভয় থাকে না। ছাত্রীদের আসা-যাওয়ার পথে কেউ কটূক্তি করলে শক্ত হাতে তা নিরসন করা হয়। মেয়েরাও এখন প্রতিবাদ করতে শিখেছে।

সর্বশেষ
logo
প্রকাশকঃ অধ্যাপক ড. জোবায়ের আলম
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এডভোকেট মো: গোলাম সরোয়ার
কার্যালয় : বিটিটিসি বিল্ডিং (লেভেল:০৩), ২৭০/বি, তেজগাঁও (আই/এ), ঢাকা-১২০৮
মোবাইল: +88 02-226603507, +88 02-226603508, +880 1713 037 345, +880 1300 126 624
ইমেইল: tbtbangla@gmail.com (online), ads@thebangladeshtoday.com (adv) newsbangla@thebangladeshtoday.com (Print)
বাংলাদেশ টুডে কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2026 The Bangladesh Today. All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram