

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারীতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মতামতকে উপেক্ষা করে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিবর্তন করার অভিযোগ উঠেছে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে। উপজেলার ৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭২জন প্রধান শিক্ষক পূর্বের কেন্দ্র বহাল চেয়ে জেলা প্রশাসক এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নিকট আবেদন করেও প্রতিকার না পেয়ে হতাশ তারা। থানাহাট এ.ইউ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিবর্তন করে বেসরকারী প্রতিষ্ঠান থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্র নির্বাচন করায় উপজেলার শিক্ষার্থী অভিভাবকসহ সুধিজনের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, চিলমারীতে স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত থানাহাট এ.ইউ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে একাধিক বহুতল ভবন নির্মিত হয়েছে এবং সংযুক্ত থানাহাট ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক বহুতল ভবন রয়েছে। ফলে বিগতদিন থেকে যে কোন পাবলিক পরীক্ষার জন্য কেন্দ্রটি নিরাপদ পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে এস.এস.সি ভোকেশনাল ও প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
২০২৫ সালের আসন্ন প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষাকে সামনে রেখে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শিক্ষা কমিটিকে তোয়াক্কা না করে নিজের খেয়াল-খুশিমত কেন্দ্রটি থানাহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নির্বাচন করে মতামত পাঠান। বিষয়টি বুঝতে পেরে থানাহাট এ.ইউ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষা কেন্দ্র পুনর্বহালের জন্য জেলা প্রশাসক এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেন উপজেলার ৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মধ্যে ৭২টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কেন্দ্রটি পুনর্বহালের জন্য বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুমতি দিলে আবারও শিক্ষা অফিসার তার নিজ খুশি মতো শিক্ষা কমিটিকে তোয়াকা না করে কেন্দ্রটি থানাহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে রাখার সুপারিশ করেন। এতে উপজেলার শিক্ষার্থী অভিভাবকসহ সুধিজনের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
শিক্ষার্থী অভিভাবক, সচেতনমহল ও শিক্ষকদের দাবী থানাহাট এ.ইউ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়টির সার্বিক পরিবেশ পরীক্ষা কেন্দ্রের জন্য উপযুক্ত।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থী অভিভাবক কায়েছ আহমেদ, রুহল আমিনসহ অনেকে বলেন, থানাহাট এ.ইউ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়টি একটি উপযুক্ত পরীক্ষা কেন্দ্র, খোলামেলা ও পরিবেশবান্ধব কেন্দ্র হওয়ায় এটি পরিবর্তন করা কোনভাবেই কাম্য নয়। অপরদিকে থানাহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি সংকীর্ণ পরিবেশে ও পরীক্ষা কেন্দ্রের জন্য অনুপযোগী।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার কামরুজ্জামান বলেন, পরিবর্তীত কেন্দ্র সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বেশি থাকায় সেখানে কেন্দ্র স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক জানান, কেন্দ্র পরিবর্তনের বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। শিক্ষা অফিসার আমাকে অবহিত করে কেন্দ্র পরিবর্তনের সুপারিশ করেছেন। বিষয়টি আমার এখতিয়ারের মধ্যে পড়েনা।
