

মাসুদ রানা, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আত্রাই নদীর বুকজুড়ে গড়ে ওঠা মাঝিয়ালির চর। দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন এই চরেই বসবাস করছে ১৩টি পরিবার। বর্ষার পানিতে চারদিক ঘেরা হয়ে পড়ে এলাকা। নৌকা না থাকায় শিশুরা স্কুলে যেতে পারে না, অসুস্থ হলে চিকিৎসা নিতে বিলম্ব হয়। এই কষ্টের কথা উঠে এসেছিল প্রতিবেদনে। সংবাদ প্রকাশের পর দ্রুত পদক্ষেপ নিল উপজেলা প্রশাসন।
সোমবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার নিজেই উপস্থিত হয়ে চরবাসীর হাতে একটি নতুন নৌকা তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজমূল হক ও আলোকঝাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান।
নৌকা হস্তান্তরের সময় ইউএনও বলেন, মানুষের কষ্ট কমানোই সরকারের কাজ। সংবাদে চরবাসীর ভোগান্তির খবর দেখে আমি নিজে এসে দাঁড়ালাম তাদের পাশে। আশা করি, এই নৌকা অন্তত কিছুটা হলেও তাদের চলাচলের সমস্যার সমাধান করবে।
চরের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, আমরা শুধু কষ্টের কথা বলেছি। ভাবিনি এত দ্রুত সমাধান আসবে। ইউএনও স্যার আমাদের জন্য নৌকা দিয়ে সত্যিই বড় উপকার করলেন।
স্থানীয় আহসান হাবিব বলেন, বর্ষাকালে সন্তানদের স্কুলে নেওয়া যেত না, অসুস্থ হলে বিপাকে পড়তে হতো। এই নৌকা আমাদের জীবনের নতুন ভরসা।
আরেক বাসিন্দা সোহেল ইসলাম জানান, আমরা বহুদিন ধরে নৌকার দাবি করে আসছিলাম। আজ ইউএনও স্যার নিজ হাতে আমাদের নৌকা দিলেন। এটা আমাদের জীবনের জন্য বড় প্রাপ্তি।
চরের নারীরাও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, আগে বর্ষার সময় সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বা বাজারে যাওয়া ছিল ভয়ংকর ঝুঁকিপূর্ণ। এখন অন্তত কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলবে।
মাঝিয়ালির চরবাসীরা মনে করছেন, এই নৌকা শুধু চলাচলের কষ্টই কমাবে না, বরং শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগের পথও সহজ করবে। চরবাসীর ভাষায় এটা যেন অন্ধকারে আলোর প্রদীপ।

